কামালউদ্দিন নীলুর কবিতা

মনজুরে মওলার লিবারেটো—অপেক্ষমাণ


বেজে চলেছে পারাপারের ঘণ্টা...
ইঁদুরের খোঁজ পেয়েছে প্যাঁচা,
চিৎকার চ্যাঁচামেচি বেশ পাচ্ছি শুনতে,
আলো আর ছায়া, তারপর অন্ধকার।
বুঝতে পারছি, গৃহ-প্রবেশের হলো যে সময়,
অনেক পথ ধরে যেতে হবে যে সেইখানে; 
যেখানে নতুন বউয়ের সাথে
জড়াজড়ি করে পোকারা শুয়ে।
লড়তে হবে পরিত্যক্ত ছেঁড়া কাপড়ের জন্যে,
পেতে হবে চুনট ঝালর,
সাজাতে হবে বাসর,
সঙ্গম করতে হবে,
হাজার বয়সী সুন্দরী বধূর সঙ্গে।
গোলাপের কলিগুলো পাপড়ি মেলেছে,
বিদায় জানাবার জন্যে।
চলি এবার গোছগাছ করে নিই,
যেতে হবে যে সেইখানে।

-----------------------------------------------


কবিরা যখন ঘুমিয়ে

কবিরা যখন নীরব থাকে
মায়ের শরীরে তখন রক্ত ঝরতে থাকে।
কবিরা যখন মারা যায়
তখনই অ-কবিদের কবিতা লিখতে হয়।
মাকে যখন প্রতিদিন হত্যা করা হয়
তখনই অ-কবিদের কবিতা লিখতে হয়।
রক্তে আঁকা মহাকাব্য যখন ওরা ছিঁড়ে ফেলতে চায়,
বায়ান্ন থেকে পঁচাত্তর যখন- 
মোল্লাতন্ত্র, ভোজবাজি, ফতোয়াবাজি, ছায়াবাজির শিকার হয়;
তখনই অ-কবিদের কবিতা লিখতে হয়।
বিপ্লবের সংজ্ঞা যখন ধর্মের কুহকে বাধা পড়ে যায়,
তখনই অ-কবিদের কবিতা লিখতে হয়।
জাতির মিথ-কে যখন পৌত্তলিকতার নামে আঘাত করা হয়,
তখনই অ-কবিদের কবিতা লিখতে হয়।
মাকে যখন তিনশত পঁয়ষট্টিবার ধর্ষণ করা হয়,
তখনই অ-কবিদের কবিতা লিখতে হয়।
কবিরা যখন নিলামের পণ্য হয়,
তখনই অ-কবিদের কবিতা লিখতে হয়।
কবিরা যখন গভীর ঘুমে
তখনই অ-কবিদের জাগতে হয়, 
কবিতা লিখতে হয়।

ইত্তেফাক/এএএম