আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাতেই প্রথম শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। দেশটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম করোনা ভাইরাসের নতুন একটি ধরন শনাক্তের কয়েক দিন পরই এই মাইলফলক অতিক্রম করল।
দক্ষিণ আফ্রিকার বেশির ভাগ হাসপাতাল ও মেডিক্যাল সেন্টারগুলোতে কয়েক দিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোগী ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা শিগিগরই কঠোর সব বিধিনিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোয়েলি এমখাইজ তার দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ পেরিয়েছে বলে জানান। দেশটিতে মার্চে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৪ হাজার ৪১৩ জন। কোভিড-১৯ দেশটির ২৬ হাজার ৭৩৫ জনের প্রাণও কেড়ে নিয়েছে।
গত এক সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকায় গড়ে প্রতিদিন ১১ হাজার ৭০০ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই হার তার আগের সাত দিনের চেয়ে ৩৯ শতাংশ বেশি। দেশটি কেবল গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিদিন ১৪ হাজারের বেশি নতুন কোভিড-১৯ রোগী পেয়েছে। দ্রুত ছড়াতে সক্ষম করোনা ভাইরাসের নতুন ধরনটির কারণেই দেশটিতে এখন বিপুলসংখ্যক মানুষের দেহে প্রাণঘাতী ভাইরাসটির উপস্থিতি মিলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিজ্ঞানীদের একটি নেটওয়ার্ক ইস্টার্ন কেপ প্রদেশে করোনা ভাইরাসের এই নতুন ধরন শনাক্ত করে। ঐ প্রদেশ থেকেই পরে দেশের অন্যান্য অংশেও ভাইরাসের এই ধরন ছড়িয়ে পড়ে। নতুন এই ধরনের কারণে কয়েক দিন আগেই যুক্তরাজ্য দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে তাদের দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। যুক্তরাজ্যেও কোভিড-১৯-এর অন্য একটি ধরন শনাক্ত হয়েছে; যেটি পরে ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশ, কানাডা, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও পাওয়া যায়। যুক্তরাজ্য থেকেই বেশি সংক্রামক এই ধরন বিশ্বের অন্যত্র ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।