মামা রুবজ এ রহমান খুবই আত্মভোলা মানুষ। কথা বলতে বলতে মাঝেমধ্যেই খেই হারিয়ে ফেলেন। বছরে ছাতা হারানোর সংখ্যা পনেরো থেকে বিশের কম নয়! ফ্ল্যক্সি লোড নিতে গিয়ে মিনিট পাঁচেক সময় নিয়ে নিজের মোবাইল নাম্বার মনে করেন। ভোলা স্বভাবের কারণে আমি তাকে ‘ভোলা মামা’ বলে ডাকি। মামা অবশ্য নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ব্যাটা! জ্ঞানীরা একটু ভুলোমনা প্রকৃতিরই হয়।
একদিন মামা লেডিস ছাতা কিনে তার ওপরে মার্কার কলম দিয়ে কী যেন লিখলেন। আমি উঁকি দিয়ে একনজর দেখে নিলাম। মামার কাণ্ড দেখে আমার খুবই হাসি পেল। কিন্তু নিজেকে সংযত করলাম।
পরের দিন। সকালবেলা। আমি বাইরে বেরুচ্ছি আর মামা ব্যাংকে। মামাকে বাসে তুলে দিয়ে আমি হাঁটতে শুরু করি। বাসায় ফিরতে ফিরতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। বাসার মুখেই দেখলাম এক তরুণ ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কি মেঘলাদের বাসা? ৩৬ নম্বর?
মামার গতদিনের কথা মনে পড়ে গেল। যদিও বাসার নাম রুবজ ভিলা, তবু আমি তাকে বললাম, জি।
—মেঘলা কি বাসায় আছে?
আমি মুচকি হাসি দিয়ে বললাম, মেঘলা আছে কি না জানি না, তবে তার বাবা নিশ্চয় আছেন।
কথাটি বলেই কলিংবেলে চাপ দিলাম। মামা বেরিয়ে এলেন। তাঁর মুখ খুবই গম্ভীর। বুঝলাম আজো ছাতা হারিয়েছেন। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, এত দেরি হলো যে?
—একটা মিটিং ছিল।
—ও। তা সঙ্গে কে?
—ইনি মেঘলাকে খুঁজছিলেন।
মামা জিজ্ঞেস করলেন, মেঘলা?
আমি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে মুখ টিপে হাসি, উনি মেঘলার বাবা।
—এই ছাতাটা আজ গাড়িতে পেয়েছি। এই নিন। ছাতার মধ্যে ঠিকানা লেখা ছিল। এই পথ দিয়েই যাচ্ছিলাম, ভাবলাম ছাতাটা...
মামা বললেন, বেশ করেছ। অনেক ধন্যবাদ বাবা। কিন্তু মেঘলা তো বাসায় নেই। ও বাসায় থাকলে নিশ্চয় খুব খুশি হতো। বসো বাবা, চা খাও।
—আজ না।
—সে কী! চা না খেয়েই যাবে?
—আমার একটু তাড়া আছে।
সালাম দিয়ে ছেলেটি দ্রুত বেরিয়ে যেতেই মামা হো হো করে হেসে ওঠেন। আমি বলি, বিয়ে না করেই মেয়ের বাবা হওয়া চাট্টিখানি কথা!
মামা বললেন, ছাতায় মেয়েদের নাম-ঠিকানা দেওয়া থাকলে এভাবেই ফেরত পাওয়া যায়। বুঝলি হতচ্ছাড়া!
মামা জ্ঞানী জ্ঞানী ভাব নিয়ে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন।