জেএসসি পরীক্ষা ২০২০: সনদ দেবে কে?

ক্লাস, লেখাপড়া, পরীক্ষা সবই শিকেয় উঠেছে মহামারির কারণে। যাদের ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করছে, তাদের যাতনা অন্যেরা উপলব্ধি করতে পারবে না। পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথম ৫ম ও ৮ম শ্রেণির বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

৯ম শ্রেণিতে যেভাবেই উত্তীর্ণ হোক তাদেরকে জেএসসি সনদ দিতে হবে। কারণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাধারণ কর্মচারী পদে চাকরির জন্য জেএসসি সনদ দরকার হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, সনদ কে দেবে—শিক্ষা বোর্ড, না বিদ্যালয়? ২০১০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ১০ বছর যথানিয়মে জেএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষাবোর্ড ছাত্রছাত্রীদের প্রাপ্ত জিপিএ অনুসারে সনদ দিয়ে আসছিল। ২০২০ সালে সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ছন্দপতন ঘটল।

২০১০ সালের আগে স্কুলসমূহই ৮ম শ্রেণি পাশ সনদ দিত। কিন্তু সেই সার্টিফিকেট প্রদানে ছিল নানা অনিয়ম। দেখা গেছে, কোনোদিন স্কুলের বারান্দায় না গিয়েও কেউ সনদ তুলেছে অর্থের বিনিময়ে! বিগত বছরগুলোতে অনুত্তীর্ণ ছাত্ররাও স্কুল কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ২০২০ সালের সনদে ভাগ বসাতে পারে। তাছাড়া নম্বর প্রদান ও জিপিএ প্রদানের ক্ষেত্রে সঠিক মানদণ্ড বহাল থাকবে না। সম্ভাব্য এসব সীমাবদ্ধতা এড়াতে একমাত্র পথ সনদ প্রদানের ক্ষমতা শিক্ষা বোর্ডের হাতে থাকা। তবে সেটা সম্ভব কীভাবে? সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, স্কুলছাত্রদের মান নির্ণয় করে পরবর্তী ক্লাসে প্রমোশন দিতে। বিগত তিন বছর ধরে কয়েকটি বিষয় যেমন ক্যারিয়ার শিক্ষা, চারুকলা ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে সম্মানিত প্রধান শিক্ষকবৃন্দ ছাত্রদের মেধা-মনন মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা নিয়ে নম্বর দিয়ে বোর্ডে পাঠিয়ে দেন। বোর্ড তদানুসারে ঐসব বিষয়ের ফলাফল প্রকাশ করত। বোর্ড কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ বছর সব বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর স্কুল বোর্ডে পাঠাতে পারে। বোর্ড সে অনুসারে ফলাফল প্রকাশ করে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও সনদ প্রদানের উদ্যোগ নেবে। এটাই হবে যথাযথ পদক্ষেপ।

মাহমুদ ইউসুফ

সদর, বরগুনা