জামালপুরে গতকাল চিকিত্সকদের তৃতীয় দিন ধর্মঘট অব্যাহত থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে ডেলিভারির রোগীসহ শীতজনিত আক্রান্ত শিশু ও বৃদ্ধরা। অপরদিকে মঙ্গলবার দুপুর ১টায় শহরের বকুলতলা চত্বরে জামালপুরবাসীর ব্যানারে, চিকিত্সকদের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু, রোগীর স্বজনদের ওপর হামলা এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করেছে মৃত রোগীর স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
অপরদিকে মঙ্গলবার বিকালে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হকের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির সভাপতি উপসচিব পদমর্যাদা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাবিক) মো. মুখলেছুর রহমান। প্রতিবেদনে কী উল্লেখ করা হয়েছে তা জানতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
এদিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালসহ সারা জেলার সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিত্সকদের তৃতীয় দিনে ধর্মঘট অব্যাহত থাকায় ভেঙে পড়েছে জেলার চিকিত্সাসেবা। ফলে চিকিত্সাসেবা নিতে আসা লাখো মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। মারাত্মক ও মুমূর্ষু রোগী সেবা না পেয়ে হাসপাতাল ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে।
পৌরশহরের ডাকপাড়ার বাসিন্দা জান্নাত বেগম তার দেড় বছরের কন্যা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে চিকিত্সার জন্য এসে চিকিত্সা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন। মুসলিমাবাদ এলাকার জবেদা খাতুন হাসপাতালে চিকিত্সা না পেয়ে ফিরে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের বলেন, আমার কিডনির সমস্যা। অপারেশন করা দরকার। খুবই কষ্টে আছি। ডাক্তার কবে আসবে, ধর্মঘট কবে শেষ হবে? শুধু জবেদা খাতুন নন তার মতো জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা শত শত রোগী চিকিত্সা না পেয়ে এভাবেই চলে যেতে হচ্ছে। আবার আন্তঃবিভাগে ভর্তিকৃত রোগীরাও সেবা না পেয়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। জরুরি বিভাগে নামমাত্র চিকিত্সাসেবা দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ রোগীদের।
এ বিষয়ে জামালপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য জরুরি ও আন্তঃবিভাগের সেবা চালু রয়েছে। তিনি বলেন, ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি। সুষ্ঠু বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তাদের চার দফার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
গত ২৫ ডিসেম্বর অক্সিজেনের অভাবে একজন নারী রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় রোগীরা স্বজনদের সঙ্গে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিত্সকসহ ইন্টার্ন চিকিত্সকদের সংর্ঘষ, হামলা-পালটা হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি করে আন্দোলনে রয়েছেন জামালপুরের চিকিত্সকরা।