বিপিসির এলপিজির জন্য হচ্ছে সিলিন্ডার প্ল্যান্ট

এলপি গ্যাসের ব্যবস্থাপনায় নির্মাণ করা হবে এলপিজি সিলিন্ডার প্ল্যান্ট। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ২০ লাখ সিলিন্ডার তৈরি করা সম্ভব হবে। ৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি টাঙ্গাইলে নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের জন্য জায়গা অধিগ্রহণ করা রয়েছে। সরকারি একটি সংস্থার মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিপিসিকে আর গ্যাস সিলিন্ডার আমদানি করতে হবে না।

দেশে সরকারিভাবে বিপিসির দুটি এলপিজি প্ল্যান্ট রয়েছে। দুটি প্ল্যান্টে বছরে প্রায় ২০ হাজার টন এলপিজি উত্পাদনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে নানামুখী সমস্যার কারণে বছরে প্রায় ১৫ হাজার টন এলপিজি উত্পাদন হচ্ছে। কিন্তু বিপিসির এসব এলপিজি আমদানি করা সিলিন্ডারের মাধ্যমে বাজারজাত হয়ে আসছে। এসব সিলিন্ডার আমদানি করতে প্রচুর অর্থ খরচ হচ্ছে। সময়মতো সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে না পারায় জরাজীর্ণ সিলিন্ডারের মাধ্যমে বিপিসির এলপিজি বাজারজাত করতে হচ্ছে। এতে মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার নিয়ে গ্রাহকদের নানা অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলে অনেক আগেই একটি এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য ৬ দশমিক ৯১ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু এলপিজি প্ল্যান্ট না করায় জায়গাটি খালি পড়ে রয়েছে। সম্প্রতি বিপিসির বোর্ড সভায় সেই জায়গায় একটি এলপিজি সিলিন্ডার প্ল্যান্ট নির্মাণের জন্য সম্মতি দেওয়া হয়। মোট জায়গার মধ্যে ৩ একর জায়গাতে সিলিন্ডার প্ল্যান্টটি নির্মাণ করা যাবে। সামনে যদি এলপিজি প্ল্যান্ট করতে হয় তাহলে অবশিষ্ট জায়গায় করা যাবে। জানা যায়, বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশীয় বাজারে বছরে ১২ লাখ টন এলপিজি বাজারজাত হচ্ছে। বাজারে রয়েছে আড়াই কোটি সিলিন্ডার। বছরে  প্রায় ১০ শতাংশ সিলিন্ডার ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সরকার আবাসিকে গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে আবাসিক গ্রাহকরা। বছরে প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ এলপিজির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে আগামী ৩০ সালের মধ্যে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির চাহিদা বছরে ৩০ লাখ টনে দাঁড়াবে।

দেশে বেসরকারি ১৫টি কোম্পানি এলপিজি সিলিন্ডার নির্মাণ করছে। তারা নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর বাকি সিলিন্ডার বিক্রি করছে। বিপিসি সূত্র জানায়, বাজারে সরকারিভাবে বিপিসির ৪ লাখ ৩২ হাজার সিলিন্ডার রয়েছে। নতুন করে ২৫ হাজার সিলিন্ডার কেনার জন্য টেন্ডার হয়েছে। আরো ১ লাখ সিলিন্ডার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এলপি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফজলুর রহমান খান ইত্তেফাককে বলেন, ‘বর্তমানে বিপিসির এলপিজি দুটি প্ল্যান্ট ছাড়াও সামনে আরো এলপিজি প্ল্যান্ট নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। এসব গ্যাস বাজারজাতকরণের জন্য বিপিসির একটি সিলিন্ডার তৈরির প্ল্যান্ট থাকা অতি প্রয়োজন। এতে প্রতিদিনের সিলিন্ডার নিয়ে জরুরি চাহিদা দ্রুত মেটানো সম্ভব হবে।’