অ্যাপল আইওএস ১৪ এর প্রাইভেসিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। সকল অ্যাপ ডেভেলাপারকে তার নিজের অ্যাপে কি ধরনের ডাটা সংগ্রহ করছে, এই ডাটা কিভাবে ব্যবহারকারীকে ট্র্যাক করছে, তৃতীয় পক্ষের সাথে এই ডাটা কিভাবে শেয়ার করা হচ্ছে, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা ব্যবহারকারীকে দিতে হবে এবং ব্যবহারকারী চাইলে এই ধরনের ডাটা দেয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখবে। প্রাইভেসি ও তথ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। আমি নিজেও ব্যবহারকারী ট্র্যাক, ব্যবহারকারীর অজান্তে ডাটা কালেকশনের ভয়ংকর বিপক্ষে। গুগল ফেসবুক এই কাজটা করে যাচ্ছে দিনের পর দিন ফ্রি ইন্টারনেটের নামে।
অ্যাপেলের এই পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি ক্ষেপেছে ফেসবুক। টানা দুই সপ্তাহের মত পুরো পেজ জুড়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছে বিভিন্ন পত্রিকায়। তাদের বক্তব্য এই পদক্ষেপ ইন্টারনেটকে আরও খরুচে করে ফেলবে, ছোট ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এদের বিতন্ডা এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে ফেসবুক অ্যাপল গ্রাহকদের জন্য বন্ধ হতে পারে এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ফ্রি ইন্টারনেট বনাম প্রাইভেসির লড়াইটা আসত কোন না কোন এক সময়ে। এটা এই সময়ে চলে এসেছে। অ্যাপল এই জায়গা থেকে সরে আসার মানে তার ব্যবহারকারীর কাছে অ্যাপেলের যে প্রতিশ্রুতি তা থেকে সরে আসা। আর যদি মীমাংসা না হয়, ফেসবুক মেনে না নেই, কোন কারণে ফেসবুক অ্যাপল থেকে সরিয়ে নিলে কি হয় তা দেখার বিষয়। আরেকটা সোস্যাল মিডিয়া দাঁড়াবে নাকি লোকজন অ্যাপল থেকে নিজেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় নিবে ফেসবুক ব্যবহার করার জন্য? এটাই দেখার বিষয়।
আপনাদের কি মনে হয়? লোকজন কি শুধু ফেসবুকের জন্য আইফোন আইপ্যাড ব্যবহার ছেড়ে দিবে, যদি ফেসবুক অ্যাপেলে বন্ধ হয়ে যায়?
লেখক :সিনেসিস আইটি’র সিইও