মুজিববর্ষ

পুরস্কার চালু করে বঙ্গবন্ধুকে সম্মানিত করল ইউনেস্কো

‘মুজিববর্ষ’ হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উত্সব। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে এ উত্সব উদ্যাপন করার কথা ছিল। লক্ষ্য ছিল দেশ-বিদেশে ২৯৮টি কর্মসূচি পালনের। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো) বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘মুজিববর্ষ’ উদ্যাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়। গত বছরের ২৫ নভেম্বর প্যারিসে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে সংস্থার ৪০তম সাধারণ পরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে সর্বসম্মতভাবে মুজিববর্ষ উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে ইউনেস্কোর ১৯৩টি দেশে একই সঙ্গে উদ্যাপিত হওয়ার কথা ছিল জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। কিন্তু করোনার করাল থাবায় অধিকাংশ কর্মসূচিই স্থগিত করা হয়েছে। সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালিত হচ্ছে মুজিববর্ষ। তবে মুজিববর্ষে বড় অর্জন বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার চালু করেছে ইউনেস্কো। এর আগে ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ক্যাটাগরিতে স্থান পায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ।

এদিকে করোনা মহামারির কারণে কর্মসূচিগুলো যথাযথভাবে করা না যাওয়ায় মুজিববর্ষের মেয়াদ বাড়িয়েছে সরকার। মুজিববর্ষের সময়কাল ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এখন সব কর্মসূচি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির উত্তরণের অপেক্ষায় রয়েছে। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তার হাত ধরেই ১৯৭১ সালে বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু জন্মের শত বছর পূর্ণ হয়েছে। আগামী বছরের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ উদ্যাপন করবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে সরকার ২০২০-২০২১ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করে।

গত ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিবসে মুজিববর্ষের লোগো উন্মোচনের পাশাপাশি ক্ষণগণনার মাধ্যমে মুজিববর্ষের আয়োজন শুরু হয়। সারা দেশে সরকারি, বেসরকারি দপ্তর, প্রতিষ্ঠানে ক্ষণগণনা যন্ত্র স্থাপন করা হয়; শুরু হয় মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চের। ১০ জানুয়ারি বিকেল ৫টায় তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আবহও ‘প্রতীকীভাবে’ ফুটিয়ে তোলা হয়। লেজারের প্রতিচ্ছবিতে বঙ্গবন্ধুও সেখানে ‘উপস্থিত’ ছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু যে বিমানে করে দেশে ফিরেছিলেন, সেই আদলের একটি বিমানও হাজির করা হয় ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানে। এরপর সব পরিকল্পনামাফিক এগোতে থাকে। ১৭ মার্চ বর্ণাঢ্য আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ঘটা করে উদ্যাপন করবে—এমনই ছিল পরিকল্পনা। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আনুষ্ঠানিক আয়োজন উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি সেদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের। পাশাপাশি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ঐ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। জাতির পিতার জন্মদিনের সব অনুষ্ঠান ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরমে উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত হয়।

বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার চালু করল ইউনেস্কো

বাংলাদেশের প্রস্তাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি পুরস্কার চালু করেছে জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো)। এই পুরস্কারের নাম ‘ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ইন দি ফিল্ড অব ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’। গত ১১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ইউনেস্কো নির্বাহী পরিষদের শরত্কালীন ২১০তম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই প্রথম জাতিসংঘের কোনো অঙ্গসংস্থা বঙ্গবন্ধুর নামে একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন করল। ইউনেস্কো অধিক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতিমান ব্যক্তি তথা প্রতিষ্ঠানের নামে ২৩টি ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তিত রয়েছে। প্রতি দুই বছর অন্তর এ পুরস্কার প্রদান করা হবে, যার অর্থমান ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এ পুরস্কারটি প্রথমবারের মতো আগামী ২০২১ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় ইউনেস্কোর ৪১তম সাধারণ সভা চলাকালে প্রদান করা হবে।

সংসদের বিশেষ অধিবেশন :মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে গত ৮ নভেম্বর থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সংসদের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ১০ কার্যদিবসের এই বিশেষ অধিবেশনে প্রথম এবং শেষ চার কার্যদিবস চলে সাধারণ অধিবেশনের মতোই। ১৯ নভেম্বর রাতে অধিবেশনের সমাপনী সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে শোনানোর মধ্য দিয়ে স্পিকার অধিবেশন সমাপ্তি ঘোষণা করেন।