সংস্কৃতি

শিল্পাঙ্গন জুড়ে স্থবিরতা

করোনা মহামারির ধাক্কা পুরো পৃথিবীকেই নাড়িয়ে দিয়ে গেছে। বাংলাদেশের জীবনযাত্রাও গিয়েছিল থেমে। করোনা ও লকডাউনের প্রভাবে সংস্কৃতি অঙ্গনেও আর সবকিছুর মতোই নেমে এসেছিল স্থবিরতা। সংস্কৃতির কলাকুশলীরা পড়েছিলেন নিদারুণ অর্থসংকটে। এর পাশাপাশি বই প্রকাশনীর সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও অর্থাভাবে কষ্টকর জীবন কাটাচ্ছেন। একই পরিস্থিতি ছিল নাটক, সিনেমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও। করোনার কারণে দেওয়া লকডাউন উঠে যাওয়ার পর অন্য সব খাত ধীরে ধীরে জেগে উঠতে শুরু করলেও সংস্কৃতি খাতে মহামারির প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। সপ্তাহে দুই দিন ঢাকার মঞ্চে নাটক প্রদর্শনী শুরু হলেও প্রকৃত বিচারে সংস্কৃতি অঙ্গনে এখনো করোনা মহামারির স্থবিরতা কাটেনি। সংস্কৃতি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের জীবনে অর্থাভাব দিনে দিনে আরো প্রকট হয়েছে। সরকারিভাবে কয়েক হাজার কলাকুশলীকে অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরও যদি করোনা মহামারি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে এই অর্থসহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া অনেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নিজ উদ্যোগেও সহযোগতাির হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এদিকে, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর জোটভিত্তিক মঞ্চ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে কিছু কিছু সহযোগিতা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আর সরকারিভাবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারা দেশের ১২ হাজারের বেশি শিল্পীকে এককালীন ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

 এ বছর সবচেয়ে বড়ো ঘটনা নিশ্চয়ই ছায়ানটের বর্ষবরণের অনুষ্ঠান না হওয়া। মুক্তিযুদ্ধের বছর ছাড়া বর্ষবরণের অনুষ্ঠান কখনোই বন্ধ থাকেনি। কিন্তু করোনা সংক্রমণের ভয়ে বন্ধ থাকে ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। তবে বাংলাদেশ টেলিভিশন গত কয়েক বছরের অনুষ্ঠান থেকে ধারণকৃত কিছু গান নিয়ে অনুষ্ঠান সাজিয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে ছায়ানটের সভাপতি সন্জীদা খাতুন বর্ষবরণের আবাহন জানিয়েছিলেন জাতির উদ্দেশে। এর পাশাপাশি বন্ধ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঈদের সময় পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঈদ শোভাযাত্রাও এবার  হয়নি। হয়নি মহররমের তাজিয়া মিছিল। এদিকে করোনার কারণে আসছে ২০২১ সালের বইমেলা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। শীত পেরিয়ে যাওয়ার পর করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকলেই এ বছর বইমেলা হতে পারে। এদিকে পুস্তক প্রকাশকেরা যদিও চাপ দিচ্ছিলেন বইমেলা যথাসময়ে করার, কিন্তু করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে তা পিছিয়ে দেয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

শীত আসে, সঙ্গে করে নিয়ে আসে উত্সবের ক্ষণ। উত্সবের উষ্ণতা কাটিয়ে দেয় শীতের ঠান্ডা। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে থমকে গেছে সব আয়োজন। রাজধানীতে এই সময়েই শুরু হয় একের পর এক উত্সব। আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উত্সব, পৌষমেলা, নাট্য উত্সব—কত কিছুরই না আয়োজন করা হয়। কিন্তু এবার সবকিছুতেই গুড়ে বালি দশা। সবাই প্রতীক্ষায় আছে কবে কাটবে এই করোনার অমানিশা। করোনার কারণে এ বছর অনুষ্ঠিত হয়নি ইন্টারন্যাশনাল লিট ফেস্ট। ‘সাহসী হিরো আলম’ সিনেমা দিয়ে করোনার পর চালু হয় সিনেমা হল। তবে অধিকাংশ হল বন্ধ। ১৮ মার্চ বন্ধ হয়ে যায় দেশের নাট্যমঞ্চগুলো। এর ছয় মাস পর ২৮ আগস্ট মহিলা সমিতি মঞ্চে ‘লালজমিন’ নাটক প্রদর্শনীর মাধ্যমে পর্দা ওঠে মঞ্চের।