করোনায় উত্তাপ ছড়িয়ে ছিল বাফুফের নির্বাচন

বছর শেষে ক্রীড়াঙ্গন ছিল সরগরম

করোনার মধ্যে দুনিয়া জুড়েই ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে ছিল মানুষ। পরিস্থিতি কিছুটা হালকা হলে বাফুফের নির্বাচন সম্পন্ন করে। করোনায় এপ্রিলের নির্বাচন পিছিয়ে হয়েছিল ৩ অক্টোবর। ফুটবল নির্বাচন দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। সারাদেশ থেকে কাউন্সিলররা ঢাকায় ভোট দেন। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বাফুফে সাহস করে নির্বাচন সম্পন্ন করে।

বাফুফের নির্বাচনে লড়াই সংবাদমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। কাজী সালাহউদ্দিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন শফিকুল ইসলাম মানিক ও প্রয়াত বাদল রায়। নির্বাচনে জলঘোলা হয়েছে অনেক। বাদল রায় একবার বলেছেন তিনি আছেন আরেকবার বলেছেন তিনি নেই। নির্বাচনের আগের রাতে আবার বাদল রায় নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে বলেন তিনি সরে যাননি। সালাহউদ্দিনের প্যানেলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাফুফেতে বসেছেন।

সালাহউদ্দিনের প্রতিপক্ষ বাদল রায়, বাবলু, আসলাম, মহিদের প্যানেলের পক্ষ নিয়ে ক্রীড়া সংগঠকদের নেতা আশিকুর রহমান মিকু বলেছেন, এই প্যানেল পাশ না করলে তিনি ক্রীড়াঙ্গন ছেড়ে চলে যাবেন। এক-দুই জন ছাড়া সবাই নির্বাচনে হেরে গেছেন। ভোটাররা আস্থা রেখেছেন সালাহউদ্দিনের ওপর।

ফুটবল বলে নতুন স্বপ্ন দেখার সুযোগ কম। কয়েক জন নতুন মুখ বাফুফের চেয়ারে বসলেও ঘুরেফিরে পুরোনো মুখ। ১২ বছর ধরে সালাহউদ্দিনের পেছনে রয়েছেন তারা। সালাহউদ্দিনকে সহযোগিতা করতে না পারলেও তারা আছেন ফুটবল উন্নয়নের কথা বলে। পুরুষ প্রার্থীদের বিপক্ষে লড়াই করে সদস্য পদে একমাত্র নারী মাহফুজা আক্তার কিরণ নির্বাচিত হওয়াটা তার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল।

ভোট শেষ হতেই করোনার মধ্যেই বাফুফে নেপালকে ঢাকায় এনে মুজিববর্ষ ফিফা প্রীতি দুই ম্যাচ সিরিজের আয়োজন করে সাহস দেখিয়েছে। এশিয়াতে এটি দ্বিতীয় আয়েজন ছিল। কাতার ফুটবলের অনুরোধে দল পাঠিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দোহায় কাতারের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে এসেছে বাংলাদেশ। এতদিন পর ভাড়া বাড়ি নিয়ে হলেও বাফুফে নিজেদের একাডেমি গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। দীর্ঘদিনের চাওয়া একটি জিম তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এবছরই শুরুতে ফেডারেশন কাপ হয়েছিল। লিগও শুরু হয়েছিল, কিছু খেলা হওয়ার পরই করোনার আঘাতে সব লন্ডভন্ড।

ফুটবল আবার নাড়া দিয়ে উঠেছে। ফেডারেশন কাপ টুর্নামেন্ট চলছে। কয়দিন বাদে লিগও শুরু হবে। আশঙ্কা হচ্ছে যেভাবে দুনিয়া জুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বেড়েছে তাতে সমানে কি হয় তা বলা কঠিন। তার আগ পর্যন্ত বছরটা শেষে দেশের ক্রীড়াঙ্গন ছিল মুখরিত। ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হয়েছে, হকি টুর্নামেন্ট হয়েছে দুটি, কাবাডি, বাস্কেটবল, বক্সিং, জাতীয় স্কুল ফুটবল, নারী ফুটবল লিগ, জেএফএ কাপ ফুটবল, জাতীয় শরীরগঠন, র্যাংকিং ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, অ্যাথলেটিকস, অনলাইন দাবা, অনলাইন শুটিং, আরচারি খেলা হয়েছে। করোনার মধ্যেও রাশিয়া হতে অটিস্টিক জিমন্যাস্টিকসের জুনিয়র ক্যাটাগরিতে আবু সাঈদ রাফি তৃতীয় হয়ে পদক জয় করে ফিরেছেন, তার সঙ্গে কোচ ছিলেন দেওয়ান নজরুল।