রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

জনবলসংকটে ব্যাহত চিকিত্সাসেবা

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবলসংকটে চিকিত্সাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। চরাঞ্চলসহ দূরদূরান্ত থেকে চিকিত্সা নিতে আসা রোগীরা প্রায়ই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জানা যায়, ২০১২ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত নতুন ভবনের উদ্বোধন করা হয়। এর পর থেকে নতুন ভবনের জন্য কিছু আসবাবপত্র আনা হলেও প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও জনবল এখনো পূরণ হয়নি। এছাড়া এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই আলট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজি মেশিন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিতে আসা আকলিমা বেগম নামের পঞ্চাশোর্ধ বয়সি এক রোগী বলেন, ‘এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আগের চেয়ে বড় করা হয়েছে শুনেছি। আজ ওষুধ নিতে এসেছি এখানে। সকালে এসে দুপুর হয়ে গেছে, কিন্তু মানুষের ভিড়ের জন্য ডাক্তারের কাছে যেতে পারছি না।’ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা যায়, শুধু ৩১ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই ৩৫ জন ডাক্তারের মঞ্জুরিকৃত পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ পদই শূন্য। অন্যত্র সংযুক্তি দেওয়া হয়েছে আরো ৯ জন ডাক্তারকে। অনুপস্থিত আছে এক জন এবং সম্প্রতি ওএসডিতে আছেন আরো একজন ডাক্তার। তাই কর্মক্ষেত্রে চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করতে ডাক্তার রয়েছে মাত্র পাঁচ জন।

সরজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে ডাক্তার থাকলেও ওয়ার্ড বয় নেই। ফলে আনুষঙ্গিক কাজ ব্যাহত হতে দেখা যায়। বহির্বিভাগের ফার্মেসিতে রোগীদের ভোগান্তি হতে দেখা যায়। এছাড়া প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০ রোগী চিকিত্সাসেবা নিতে আসেন। তাদের ওষুধ বিতরণে রয়েছে একজন ফার্মাসিস্ট। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম ডাক্তার সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস ছাদেক বলেন, ‘চিকিত্সাসেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে বের হব। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘নতুন ভবনের জন্য নামমাত্র কিছু আসবাবপত্র আসলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় ৫০ শয্যার কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ডাক্তারসহ প্রয়োজনীয় জনবল পেলে এ উপজেলার শতভাগ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।’