মাঝারি ও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে দেশের উত্তর জনপদের বেশির ভাগ জেলায়। অব্যাহত শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দিনাজপুরসহ এই অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। আর গত কয়েক দিন ধরেই তীব্র শীতের কারণে বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। বিশেষ করে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলোতে ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলে গতকাল মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই ছিল গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবারের তুলনায় মঙ্গলবার দিনাজপুরে তাপমাত্রা কমেছে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে আরো একটি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা।
দিনাজপুরের একমাত্র শিশু হাসপাতাল অরবিন্দ শিশু হাসপাতালে গেল কয়েক দিনের তুলনায় শিশুরোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। এই হাসপাতালে গত সপ্তাহে বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ১০০ শিশুরোগী আসলেও চলতি সপ্তাহে রোগীর সংখ্যা বেড়ে প্রতিদিন দাঁড়িয়েছে দেড় শতাধিক। তবে বর্তমানে এখানে প্রায় ৬০ শিশু ভর্তি রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা অনুরূপ বেড়েছে।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মনীন্দ্র নাথ রায় জানান, বর্তমানে অধিকাংশ শিশু জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগে হাসপাতালে আসছে। তীব্র এই শীতে শিশুদের যাতে ঠান্ডা না লাগে, সেজন্য অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ জানান তিনি।
উলিপুরে তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, উলিপুরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদী অববাহিকার হতদরিদ্র মানুষ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে, শীত ও কুয়াশায় চলতি বোরো মৌসুমের বীজতলা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উপজেলার ধামশ্রেণি ইউনিয়নের কৃষক মজিবর রহমান জানান, শীতে অর্ধেক বীজ জন্মায়নি। এছাড়াও বীজতলার চারাগাছ শীতের কারণে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদী অববাহিকার বেশির ভাগ বীজতলা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, বোরো বীজতলা রক্ষায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। তবে চলতি বোরো মৌসুমে চাহিদার চেয়ে বেশি বীজতলা তৈরি করায় চারা সংকটের সম্ভাবনা নেই।