বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেছেন, আগে থেকেই জলবায়ু পরিবর্তনকে উন্নয়ন নীতি ও পরিকল্পনায় যথাযথ অগ্রাধিকার দেওয়া নিয়ে বিশ্বব্যাপী নতুন ভাবনার জোয়ার চলছিল। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সবুজ অর্থায়নে অগ্রণী দেশগুলোর মধ্যেই ছিল। করোনা মহামারিজনিত অর্থনৈতিক স্থবিরতার মুখে সবুজ অর্থায়নের গুরুত্ব আরো বেশি স্পষ্ট হয়েছে বিশ্ব নেতৃত্বের সামনে। তাই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে সবুজ করার কোনো বিকল্প নেই।
বুধবার উন্নয়ন সমন্বয়, বিডব্লিউজিইডি এবং বাপা-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘গ্রিন ইকোনমিক রিকভারি ইন বাংলাদেশ :প্রসপেক্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক ওয়েবিনারে তিনি এ কথা বলেন। মূল নিবন্ধে ড. আতিউর রহমান আরো বলেন যে, ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তিনি একটি দূষণহীন, সবুজ ও নিরাপদ উন্নয়ন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সবুজ উন্নয়নের এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে পারে এজন্য সব অংশীজনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থা, পরিবেশবাদী সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এই ওয়েবিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, ইসিসিএডির পরিচালক ড. সলিমুল হক, বিজিইএফের চেয়ারম্যান দিপাল চন্দ্র বড়ুয়া, আরডিএফের প্রধান নির্বাহী গোলাম মোস্তফা এবং জ্বালানি বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব সিদ্দিক যোবায়ের।
প্যানেল আলোচনায় ড. ফাহমিদা খাতুন সবুজ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। তার মতে প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করে কর আহরণের দক্ষতা বাড়ানো গেলে সরকারের পক্ষে সবুজ পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা সহজতর হবে।