দিনের পর দিন লোকসানের পাহাড় গড়েছে—এমন বেশ কিছু কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। এসব কোম্পানির বেশির ভাগই ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে। আর এসব কোম্পানির পুঁজিবাজার থেকে বের হয়ে যাওয়ার উপায় জানিয়ে নির্দেশনা প্রকাশ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মঙ্গলবার বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে। পুঁজিবাজারের মূল মার্কেটের বাহিরে ও অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) কোনো কোম্পানি থাকলে, তার জন্যও এই নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ওটিসি প্ল্যাটফরমের কোম্পানি, মূল মার্কেট থেকে তালিকাচ্যুত কোম্পানি ও এটিবিতে থাকা কোম্পানির শেয়ার কিনে নিয়ে শেয়ারবাজার থেকে চলে যেতে পারবে। তবে ঐ সব প্ল্যাটফরমের সব কোম্পানি চলে যেতে পারবে না। পুঁজিবাজার থেকে কোনো কোম্পানি ইচ্ছাকৃতভাবে তালিকাচ্যুত হয়ে বেরিয়ে যেতে হলে ঐ সব প্ল্যাটফরমের কোম্পানির কয়েকটি কারণের কথা বলেছে কমিশন। এরমধ্যে রয়েছে—দুই বছরের বেশি সময় বাণিজ্যিক উত্পাদনে না থাকলে, তিন বছর ধরে লোকসানে থাকলে, পরিশোধিত মূলধনের থেকে পুঞ্জীভূত লোকসান বেশি হলে, টানা তিন বছর নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে ব্যর্থ হলে, টানা দুই বছর এজিএম করতে ব্যর্থ হলে, ডেবট সিকিউরিটিজের বিপরীতে টানা তিন কিস্তি সুদ বা কূপন বা মুনাফা প্রদানে ব্যর্থ হলে এবং ডেবট সিকিউরিটিজের দুই কিস্তি প্রদানে ব্যর্থ হলে। বিএসইসির ঐ নির্দেশনায় বাজার থেকে চলে যাওয়ার জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে কী ডকুমেন্টস জমা দিতে হবে, শেয়ার দর নির্ধারণ, স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে চুক্তির বিষয়বস্তু, পাবলিকলি ঘোষণার বিষয়বস্তু, শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য এজিএম বা ইজিএম আয়োজন, স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণের পদ্ধতি, শেয়ার সেটেলমেন্টের প্রক্রিয়া এবং সেটেলমেন্টের পরে স্টক এক্সচেঞ্জ ও আবেদনকারীর কমিশনে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।