কুমিল্লায় ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশা ১০০ মিটার দূরে, প্রাণ গেল দম্পতির

গতকাল বুধবার কুমিল্লা শহরে সিগন্যাল অমান্য করে একটি সিএনজি অটোরিকশা রেললাইন পার হতে গেলে কনটেইনারবাহী ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন অটোরিকশার যাত্রী ফরিদ মুন্সী (৭০) ও তার স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৫৫)। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ঐ দম্পতির মেয়ে কলেজছাত্রী আঁখি আক্তার (১৬) ও ভাগনে সিএনজিচালক রাকিবুল (৩০)। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আঁখিকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। তাদের বাড়ি জেলার দেবিদ্বার উপজেলার গজারিয়া গ্রামে। গতকাল সকাল পৌনে ৭টার দিকে শহরের শাসনগাছা রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী, জিআরপি পুলিশ ও নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মালবাহী ট্রেনটি শাসনগাছা রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় অটোরিকশাটি রাস্তা অতিক্রম করতে গেলে ট্রেনের ধাক্কায় সেটি প্রায় ১০০ মিটার দূরে গিয়ে পড়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন অটোরিকশার চালকসহ গুরুতর আহত চার জনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক ফরিদ মুন্সীকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ফরিদ মুন্সীর বড় ভাই আবু তাহের মুন্সী জানান, তার ভাই ফরিদ মুন্সী অসুস্থ ছিলেন। সকালে ডাক্তার দেখাতে স্ত্রী-কন্যাসহ কুমিল্লা শহরে এসে দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। মারা যান ফরিদ মুন্সী। আহত তিন জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে ফরিদের স্ত্রী পেয়ারা বেগম মারা যান। অন্য দুই জনকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত আঁখির অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এদিকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। কান্নায় ভেঙে পড়া স্বজনরা জানান, অসুস্থ হয়ে চিকিত্সার জন্য বাড়ি থেকে বেড়িয়ে লাশ হয়ে ফিরেছেন তারা। 

কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. ইসমাইল হোসেন সিরাজী জানান, দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।