আগামী ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিতে দেশের চারটি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিতে সবাই নীতিগতভাবে একমত। এ বিষয়ে তাদের একাডেমিক কাউন্সিলেরও সম্মতি রয়েছে। তবে ভর্তি পরীক্ষার কমিটি গঠন ও কেন্দ্র নিয়ে তাদের দ্বিমত রয়েছে। চার প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হলো—বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বুয়েটের বক্তব্য হলো, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মডারেশন থেকে শুরু করে পরীক্ষা কেন্দ্র নির্বাচন সবকিছুই বুয়েটের নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় চলবে। কিন্তু অন্য তিন বিশ্ববিদ্যালয় চায় সমান অংশীদারিত্ব। বুয়েট ছাড়া বাকি বিশ্ববিদ্যালগুলোর বক্তব্য, এগুলো পর্যায়ক্রমে হবে। এক বছর বুয়েটের নেতৃত্বে হলে অন্য বছর অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরীক্ষা কার্যক্রম চলবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরীক্ষার সব কাজ চলবে।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, বুয়েট চেয়েছে পরীক্ষা শুধুই তাদের কেন্দ্রে হবে। এছাড়া সব সময় তাদের নেতৃত্বেই এ ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কিন্তু বুয়েটের একাডেমিক কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্ত চুয়েট, কুয়েট ও রুয়েটের একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদন দেয়নি।
বুয়েটের আজীবন এই নেতৃত্বে থাকার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে অন্য তিন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কী হবে এ বিষয়ে চুয়েটের উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের এই সভাপতি বলেন, এই পরীক্ষার বিষয় নিয়ে আরো একটি সভা হবে। সেখানে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
তবে সূত্র জানিয়েছে, বুয়েট তার অবস্থান থেকে সরে না এলে এই পরীক্ষা নিয়ে পুরোটাই অনিশ্চয়তা থেকে যাবে। কারণ অন্য তিন বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য কখনো বুয়েটের নেতৃত্ব চাইছে না। একাডেমিক কাউন্সিলও মানবে না।
গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট ও কুয়েটের উপাচার্যদের সঙ্গে ইউজিসির গতকাল এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এ বৈঠকে গুচ্ছ পদ্ধতির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।
ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল জব্বার খান, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলাম শেখ, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন যুক্ত ছিলেন।
ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীরের সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল সভায় ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মো. কামাল হোসেন এবং বুয়েটের তিন জন অধ্যাপক যুক্ত ছিলেন।
ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক আলমগীর বলেন, গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে বুয়েটের একাডেমিক কাউন্সিলের দেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর অন্য তিনটি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিগিগরই তাদের সুস্পষ্ট মতামত ইউজিসির কাছে পাঠাবে। তার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এর আগে চলতি মাসের বাংলাদেশের ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এ পদ্ধতিতে উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির ওপর ভিত্তি করে প্রণীত প্রশ্নপত্র দিয়ে মানবিক, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান—তিনটি গুচ্ছে সরাসরি ভর্তি পরীক্ষা হবে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তিনটি গুচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কৃষিবিষয়ক সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় গত বছর স্নাতক শ্রেণিতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করে।