রাজধানীসহ সারা দেশে সভা-সমাবেশ, আনন্দ শোভাযাত্রা, বিজয় মিছিলসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে গতকাল ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ পালন করেছে আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন কর্মসূচিতে দিবসটি পালন করেছে। এসব কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ইতিহাসে একটি বিজয়ের মাইলফলক। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তি, দুর্নীতি-সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের আস্ফাালন আর সহিংস রাজনীতির অন্ধকার ছায়া কাটিয়ে গণতন্ত্রের নবতর অভিযাত্রায় অগ্রসর হয় বাংলাদেশ। দেশ ও গণতন্ত্রবিরোধী যে কোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের ‘উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা’ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আলোচনা সভা আয়োজন করে। আলোচনাসভায় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।
বিকালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিকালে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ দলীয় কার্যালয়ে আলোচনাসভার আয়োজন করে। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান। আগামী নির্বাচনের আগেই পদ্মা সেতু দিয়ে চলাচল করা যাবে। এই কথা জানতে পেরে দেশের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র শুরু করেছে স্বাধীনতাবিরোধী পরাজিত শক্তি। শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে দেশের মানুষের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান। আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুুব উল আলম হানিফ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, আব্দুল আউয়াল শামীম, নুরুল আমিন রুহুল, শহীদ সেরনিয়াবাদ, মোর্শেদ কামাল, মহিউদ্দিন মহি, রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ, অপু বড়ুয়া প্রমুখ।
গণতন্ত্রের বিজয় দিবসে কৃষক লীগ সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটি উদ্যাপন করেছে। সকালে শোভাযাত্রাটি ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে শুরু করে নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে পুনরায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে এসে শেষ হয়। কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপি গণতন্ত্রের বিজয় দিবসের শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব প্রদান করেন।
যুবলীগের উদ্যোগে আনন্দ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মাইনুল হোসেন খান নিখিল। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত আজকেও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মানুষের জানমালের ওপর হামলা করছে। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন—প্রেসিডিয়াম সদস্য হাবিবুর রহমান, এনামুল হক খান, মোয়াজ্জেম হোসেন, তাজউদ্দিন আহমেদ, জসিম মাতুব্বর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম।
বিকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা মিলনায়তনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি নির্মলরঞ্জন গুহর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগ সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন।