নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি যৌথ প্রচেষ্টার প্রতি গুরুত্বারোপ

মানবাধিকার দিবস উদ্যাপন উপলক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বাংলাদেশ ও আর্টিকেল নাইনটিন যৌথভাবে গতকাল বুধবার এশিয়া ফাউন্ডেশনে ‘বেইজিং ঘোষণার ২৫ বছরে নারীর অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারের আয়োজন করে। এই অনলাইন আলোচনা সভায় বক্তারা নারীর প্রকাশ্য ও ব্যক্তিগত জীবনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম, এনডিসি। আর্টিকেল নাইনটিন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল ছিলেন সঞ্চালনায়। ওয়েবিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিস বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক। এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ও কমিশনের মহিলা ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি, জেসমিন আরা বেগম এবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের  প্রতিনিধি মোহাম্মদ জাকারিয়া।

অনুষ্ঠানে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন ও নীতিমালার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের গুরুত্ব, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় ও উত্তরণের বিভিন্ন দিক আলোচনায় তুলে ধরা হয়। লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য, অসমতা ও সহিংসতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, নতুন নীতি ও আইনের পক্ষে সমর্থন দেন আলোচকরা।

নাছিমা বেগম বলেন, যে কোনো দুর্যোগ, যুদ্ধ ও মহামারিতে নারীরা সবচেয়ে বেশি সহিংসতা ও হয়রানির শিকার হন। এই করোনার মতো মহামারির সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির কারণ শনাক্ত করার জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কাজ করছে। ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ড করার পরেও দেশে ধর্ষণ কমেনি। নারীর অধিকার রক্ষায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিস বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক বলেন, বেইজিং ঘোষণার ২৫ বছরে নারী-পুরুষের সমঅধিকার চর্চা এবং পুরুষতান্ত্রিক অবস্থা মোকাবিলা করার জন্য নারী অধিকার আন্দোলন তাত্ত্বিকভাবে যতটুকু এগিয়েছে প্রায়োগিকভাবে ততটা অগ্রসর হয়নি। শিক্ষায়, কর্মে, আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি হলেও, অনেক ক্ষেত্রেই নারীরা এখনো পিছিয়ে। অধিক সংখ্যক নারী কর্মক্ষেত্রে সংযুক্ত হলেও অধিক সংখ্যক পুরুষ গৃহস্থালি কাজে সংযুক্ত হয়নি। ফলে নারীকে ঘরে-বাইরে দুই ক্ষেত্রেই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এ কারণে কর্মজীবী নারীরা বিশ্রামের সুযোগ কম পান।

শাহীন আনাম বলেন, মানুষ হিসেবে নারীর সম্মান-মর্যাদা এখনো পরিপূর্ণ স্বীকৃতি পায়নি। নারীর কাজের স্বীকৃতি না থাকার কারণে তারা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।