৩০০ পিছ ইয়াবাকে ৩০ পিছ দেখিয়ে হাইকোর্ট থেকে জামিন

জয়পুরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে থাকা বিচারাধীন মামলার ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়ার অপরাধে স্থানীয় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার, আইনজীবী সহকারী ও জামিন নেওয়া আসামির বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির মো. শামশুল হুদা বাদী হয়ে হাইকোর্টের নির্দেশে জয়পুরহাট সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এছাড়া হাইকোর্টের আদেশে জামিনপ্রাপ্ত আসামি আয়নাল হোসেন রানার জামিন বাতিল করে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণ করতেও বলা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানা পুলিশ স্থানীয় মহাজের কলোনির আবুল কাশেমের ছেলে সহদর ভাই আয়নাল হোসেন রানা ও হযরত আলী হজো নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ৩০০ পিছ ইয়াবাসহ আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠান (মামলা নং ৬৫)। স্থানীয় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মিস কেস (মামলা নং ৫৪২/২০১৮) করেও জামিন না পেলে পরবর্তীতে পরস্পর যোগসাজশে এজাহার কপি ও জব্দ তালিকা জাল ও জালিয়াতি করে তিনশ পিচ ইয়াবার স্থলে ত্রিশ পিচ দেখিয়ে হাইকোর্ট থেকে (মিস কেস নং ৫৭৫২৯/২০১৮) জামিন প্রাপ্ত হয় আয়নাল হোসেন রানা। এবার হাইকোর্টের কাগজপত্র জালিয়াতি করে ত্রিশ পিচের স্থলে তিনশ পিচ দেখিয়ে জয়পুরহাট আদালতে ধার্যকৃত তারিখে হাইকোর্টের জামিন দেওয়া কাগজপত্র দাখিল করে আয়নাল জামিন লাভ করে। জামিনপ্রাপ্ত আসামির পথ ধরে একই মামলার অপর আসামি সহোদর ভাই হযরত আলী হজো হাইকোর্টে জামিন প্রার্থনা করলে মাদকের পরিমাণ ৩০০ পিছ হওয়ায় আদালত জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেন। একই পরিমাণ ইয়াবা থাকার পরেও মূল আসামি আয়নালের জামিন হয়েছে এমন বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিতে আনা হলে জাল জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পরে। হাইকোর্ট বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে জয়পুরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ মোতাবেক জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির শামশুল হুদা বাদী হয়ে জাল ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত তিন জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জয়পুরহাট সদর থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলো তৎকালীন জয়পুরহাট চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার মোজাহেদুল ইসলাম (৪০), জামিন প্রাপ্ত আসামী আয়নাল হোসেন রানা (২৯) ও নকল নেওয়ার জন্য আবেদনকারী হিসাবে আইনজীবী সহকারী আমিনুল ইসলাম (৩৫)। দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১০৯, ১৯৩, ১৯৬, ১৯৯, ২০১, ২০৩, ২০৯, ২১৯, ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৭১, ৪৭৩, ৪৭৪, ৩৪ ও ১৪৩ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে জাল ও জালিয়াতির মাধ্যমে এজাহার ও জব্দ তালিকা তৈরি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। যেখানে ৩০০ পিছ ইয়াবার স্থলে ৩০ পিছ করা হয়।

হাইকোর্ট বিভাগ থেকে মামলা দায়েরসহ মূল এজাহার কপি, জব্দ তালিকা সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্টারের নিকট দ্রুত সময়ের মধ্যে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে বলে জানান, জয়পুরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির মো. শামশুল হুদা। জাল ও জালিয়াতির মাধ্যমে জামিন নেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ায় বর্তমানে  জয়পুরহাটের আদালত প্রাঙ্গণে তোলপাড় হওয়ার পাশাপাশি  নানা গুঞ্জন চলছে।  

ইত্তেফাক/বিএএফ