করোনা মহামারি বিশ্ব অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। চীন প্রাণঘাতী ভাইরাসটির বিষয়ে তথ্য লুকিয়েছে বলে গুরুতত্ব অভিযোগ উঠেছে। আর এ জন্যই তাদের নেতৃত্বের বিশ্বস্ততা বিশ্বব্যাপী প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অপরদিকে ভারত এই মহামারি সময়ে কিট এবং ওষুধ উৎপাদন করে বিশ্বব্যাপী প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়েও ভারত করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে। করোনার শুরু থেকেই শক্ত হাতে এর বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনা মহামারি অসংখ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে সেই সঙ্গে সুযোগও তৈরি করেছে। আর এর সুবিধা নিতে পারছে ভারত। করোনা মহামারির মধ্যে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আয় করেছে ভারত। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাকালে সহায়তা পাঠিয়েছিল ভারত। ফলে ঐ দেশগুলোতে থাকা ভারতীয়দের চাকরি হারানোর সম্ভাবনা খুব কম। ভারতের জন্য আরেকটি সুযোগ হলো তেলের দামে পতন,। ভারত মূলত তেল আমদানি করতো আর তেলের দাম কমায় দেশটি প্রচুর সুবিধা পাচ্ছে।
করোনার মহামারির প্রভাবে তেলের দাম কমার ফলে ভারত তার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভগুলি (এসপিআর) পুনরায় পূরণ করার সুযোগ দিয়েছে। বিশাখাপত্তনম, মঙ্গলুরু এবং পাদুর এই তিনটি স্থানে বর্তমানে ভারতের প্রায় ৫.৩৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন ক্ষমতা রয়েছে। এটি এর স্টোরেজ সক্ষমতা ১৫ .৩৩ মিলিয়ন মেট্রিক টনে বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে।
এদিকে চীনের বিশ্বাস যোগ্যতা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদেরকেও আকৃষ্ট করতে পারে ভারত। অভিযোগ রয়েছে যে করোনা মহামারির শুরুতে এটি মোকাবেলায় চীন কোন পদক্ষেপ নেয়নি । তবে এই অভযিওগ অস্বীকার করেছে চীন। বিশ্বাস যোগ্যতা কমে যাওয়ায় পশ্চিমা কোম্পানিগুলো অন্যত্র সরে যাওয়া চেষ্টা করছে। "মেক ইন ইন্ডিয়া" প্রোগ্রামের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো ভারতকে চীন থেকে চলে আসা কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণ করতে পারে।
এদিকে ভ্যাকসিন তৈরিতেও নেতৃত্ব দিচ্ছে ভারত। দক্ষিণ এশিয়ায় অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন তৈরি করছে ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট। সার্ক কোভিড-১৯ জরুরী তহবিলে সবচেয়ে বেশি অবদান রেকছে ভারত। অন্যদিকে পাকিস্তান এখনো দেশটির উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন দেশের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।
ইত্তেফাক/এআর