পিস্তল, রিভলবারের দাম বেশি। এসব অস্ত্র সহজে জোগাড় করাও যায় না। তাই বলে বসে নেই চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীরা। ধারালো অস্ত্র নিয়েই অ্যাকশনে যাচ্ছে তারা। ছুরি, কিরিচসহ বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে চট্টগ্রামে।
বিশেষ করে কিশোর অপরাধীদের কাছে ধারালো অস্ত্র খুবই জনপ্রিয়। তাদের পকেটে পকেটে ধারালো অস্ত্র। চুরি, ছিনতাইয়ের পাশাপাশি নিজের বাহাদুরি দেখানোর জন্য ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। তুচ্ছ কারণে ছুরি নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাসীরা। বৃহস্পতিবারও নগরীর আকবর শাহ থানা এলাকা থেকে ১০টি ধারালো অস্ত্রসহ ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে নগরবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
সিএমপি সূত্র জানায়, ২০২০ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নগরের ১৬ থানার বিভিন্ন এলাকায় ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে ৫০টির বেশি। ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। এগুলো থানা ও মেডিক্যাল রেকর্ড সূত্রে পাওয়া তথ্য। এর বাইরে আরো অনেক ঘটনা আছে যা থানা বা মেডিক্যাল রেজিস্টার পর্যন্ত পৌঁছায় না। বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় প্রকৃত তথ্য লুকিয়ে চিকিত্সা কাজ সারা হয়।
নগরীতে ছুরিকাঘাতের যতগুলো ঘটনা ঘটেছে তা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসবের পেছনে রয়েছে খুবই তুচ্ছ কারণ। সামান্য কথা কাটাকাটি থেকে খুন হয়েছেন চার জন। এর মধ্যে ২৮ অক্টোবর আকবর শাহ থানার বিজয়নগর এলাকায় সামান্য কথাকাটাটির জের ধরে রনি ওরফে মালু নামের ২১ বছর বয়সি এক যুবককে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়। ঐ ঘটনায় পুলিশের করা সুরতহাল প্রতিবেদনে মালুর শরীরে ২২টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। গত ৩ আগস্ট খুলশী থানার জালালাবাদ এলাকার একটি পাহাড়ে উপর্যুপরি ছুরির আঘাতে খুন হন স্কুলছাত্র মো. রাসেল। এ ঘটনায় রাসেলের বন্ধু হাসানুল হক হাসানকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
গত ১৫ অক্টোবর হালিশহরের মহেশখাল থেকে মিজানুর রহমান লিটন নামে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঐ ঘটনায় ২০ অক্টোবর মো. ফয়সাল নামের এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে কথা কাটাকাটি থেকে ছুরিকাঘাত করে লিটনকে খুন করার কথা স্বীকার করে ফয়সাল। গত ৬ ডিসেম্বর রাতে পাহাড়তলী থানার দক্ষিণ কাট্টলী এলাকার জেলে পাড়ায় মোহাম্মদ মাহবুব নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা গেছে, মাদক কেনার জন্য টাকা চাওয়া এবং আড্ডাস্থলে বসা নিয়ে বাকবিতণ্ডার জের ধরে মাহবুবকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
এসব ঘটনা ছাড়াও চান্দগাঁওয়ে মা-ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা, ডবলমুরিংয়ে গাড়িচালক আইয়ুব আলী হত্যা, আনন্দবাজারের সাগর পাড়ে ইব্রাহিম খলিল নামে এক ব্যক্তিকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় নগরবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, দুই জন মানুষ পাশাপাশি বসে আছে। হঠাৎ করে একজন অপরজনকে ছুরি মেরে দিল। এ ধরনের ঘটনা পুলিশ রোধ করতে পারবে না। তবে এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরীতে যতগুলো ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে সবগুলো পুলিশ সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি