এসএসসি-২০২১:অধ্যায়ভিত্তিক ভালোভাবে প্রস্তুতি নেয়া আবশ্যক

বাংলা দ্বিতীয়পত্র

মো. কামরুল হাসান, সহকারী শিক্ষক, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, জাহানাবাদ সেনানিবাস, খুলনা ।

 

 

 

 

‘যেখানেই মানুষের সাধারণ ভীতি,

সেখানেই থাকা প্রয়োজন সমপ্রীতি;

যেমন :বাংলা ব্যাকরণ ও জ্যামিতি।’

 

 

শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের অনেকের মাঝে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ব্যাকরণ অংশে ভীতি লক্ষ করা যায় এবং যথাযথ চর্চা না করায় ফলাফল বিপর্যয়ের সম্ভাবনা থাকে । সুতরাং বাংলা দ্বিতীয়পত্রে ব্যাকরণ অংশে ভালো করার জন্য এখনই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির উপযুক্ত সময় । ভালো প্রস্তুতি না নিলে ভালো ফলাফল করা সম্ভব হবে না। তাই ভালো ফলাফল করতে হলে অধ্যায়ভিত্তিক ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া আবশ্যক ।

 

পরীক্ষার্থী বন্ধুরা,  বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠা গুরুত্বসহকারেও ভালোভাবে পড়তে হবে । বইটিতে ৫টি অধ্যায়ে মোট ৩২টি পরিচ্ছেদ আছে । প্রশ্নপত্রে সাধারণত প্রতিটি পরিচ্ছেদ থেকেই ১টি করে প্রশ্ন রাখার চেষ্টা করা হয়ে থাকে । সুতরাং কোনো অধ্যায়ের কোনো পরিচ্ছেদকে অগুরুত্বপূর্ণ মনে করার কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে কঠিন বিষয়গুলো যেমন : ধ্বনিতত্ত্ব, ধ্বনির পরিবর্তন, সন্ধি, সমাস, ধাতু, প্রত্যয়, ক্রিয়াপদ, ক্রিয়া-বিভক্তি, কারক, বাচ্য, বাক্যে পদ-সংস্থাপনার ক্রম পরিচ্ছেদগুলো বুঝে পড়তে হবে । সন্ধির ক্ষেত্রে উদাহরণ মুখস্থ না করে নিয়মগুলো বোঝার চেষ্টা করবে । বাক্য সংক্ষেপণ, বাগধারা, ণত্ব ও ষত্ব বিধান, বিপরীতার্থক শব্দের উত্তর প্রদানের সময় বানানের সঠিকতার ওপর বিশেষ দৃষ্টি রাখবে । সন্ধি, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ, ণত্ব ও ষত্ব বিধানের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়মের পাশাপাশি নিপাতনে সিদ্ধগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে । বচন, কাল, প্রত্যয় ও বাংলা অনুজ্ঞা-তে বিশেষ নিয়মে গঠিত উদাহরণগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।    

ব্যাকরণ অংশের প্রায় সকল প্রশ্নই প্রয়োগমূলক বিধায় অনুশীলন আবশ্যক । বিভিন্ন অধ্যায় ভাগ করে নিয়ে কোন অংশে কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, সেটি বুঝে পড়বে । সকল অধ্যায় খুব মনোযোগ দিয়ে কয়েকবার পড়ে নিয়ে প্রয়োজনীয় অংশগুলো মার্কার দিয়ে চিহ্নিত করে রাখবে এবং বারংবার অনুশীলন করবে।

শেষ মুহূর্তে ভালোভাবে প্রস্তুতির জন্য টেস্ট পেপার অপরিহার্য । টেস্ট পেপার থেকে প্রশ্নপত্র পরীক্ষায় আসবে না । কিন্তু টেস্ট পেপার থেকে স্বনামধন্য কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনি পরীক্ষার প্রশ্ন্নপত্র সমাধান করে পড়লে ভালো ফলাফল করা তুলনামূলক সহজতর হয় । প্রশ্নের ধারা ও ধারাবাহিকতা সম্পর্কে জানা যায় বলে প্রশ্নভীতি দূর হয়ে থাকে। পাশাপাশি চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য আরও কতটুকু ঘাটতি আছে তা সহজেই বোঝা যায়।

ভালো ফলাফল করার জন্য প্রখর মস্তিষ্কের সাথে সাথে পরিশ্রম ও বুদ্ধিদীপ্ত পড়াশোনা করা প্রয়োজন । সেজন্য পড়ার সময় কিছু কৌশল অবলম্বন করে পড়লে তা খুবই কার্যকরী হয় ।

একটানা না পড়ে কিছু সময় অন্তর বিরতি নেবে

একটি চারাগাছের বেড়ে ওঠার জন্য সপ্তাহে শুধু একদিন দেড় ঘণ্টা পানি দেওয়ার থেকে প্রতিদিন ৫ মিনিট জল দেওয়াটা অনেকটা কার্যকরী হয় । অনুরূপভাবে একটানা ৩ ঘণ্টা পড়ার থেকে সেটাকে তিনটি ভাগে ভাগ করে ১ ঘণ্টা করে পড়াটা বেশি ফলপ্রসূ হয় । তেমনি ব্যাকরণের মতো বিষয় একটানা না পড়ে বিরতি দিয়ে পড়বে ।