লক্ষ্মীকুণ্ডায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে

নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি আদেশ অমান্য করে ঈশ্বরদীর পদ্মা নদী তীরবর্তী লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এতে হুমকিতে পড়েছে চরাঞ্চলের আবাদি জমিগুলো। সরেজমিনে শনিবার উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের নবীনগর থেকে কামালপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান দেখা গেছে, ৬-৭টি স্থানে ভেকু দিয়ে বালু উত্তোলনের প্রতিযোগিতা চলছে। সবচেয়ে বেশি বালু উত্তোলন ও পরিবহন হচ্ছে দাদাপুর ও বিলকেদার গ্রামের চরাঞ্চল থেকে।

এদিকে বালু বহনকারী ড্রাম ট্রাকের কারণে লক্ষ্মীকুণ্ডার বেশির ভাগ রাস্তা ভেঙে গেছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জড়িতরা বেশ প্রভাবশালী। তাই এলাকার একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বালু ব্যবসায়ী একটি দুষ্টচক্র বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু উত্তোলন করছে। এতে চরাঞ্চলের আবাদি জমিগুলো হুমকিতে পড়েছে। আর নদী থেকে বালু খনন করে ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ায় রাস্তাগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঐ রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান শরীফ জানান, কে বা কারা বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত তা বলতে পারব না। গত ৩১ ডিসেম্বর ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পি এম ইমরুল কায়েসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় লক্ষ্মীকুণ্ডায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি উত্থাপন ও তীব্র সমালোচনা হয়। সভায় চেয়ারম্যান আনিস শরীফও উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভায় বলেন, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে শিগিগরই লক্ষ্মীকুণ্ডায় বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মমতাজ মহল জানান, এর আগেও লক্ষ্মীকুণ্ডায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়। কিন্তু অভিযান শেষে পুনরায় বালু উত্তোলন শুরু করে। এছাড়া উপজেলা সদর থেকে লক্ষ্মীকুণ্ডা দূরে হওয়ায় এ ব্যাপারে নিয়মিত তদারকি করা যায় না। তিনি আরো বলেন, লক্ষ্মীকুণ্ডার কয়েকটি স্থানকে বালু মহাল ঘোষণার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সেটি অনুমোদন হলে একসনা লিজ দেওয়া হবে। এতে সরকার রাজস্ব পাবে এবং অবৈধ বালু উত্তোলনও বন্ধ হবে।