কুমিল্লায় নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে
মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। ধর্ষণের অভিযোগে গত পাঁচ বছরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে ১ হাজার ৬১৭ জন বিভিন্ন বয়সের নারী ও শিশুর পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ৩৬৭ জনের ধর্ষণের পরীক্ষা করা হয়। গেল বছর প্রতিদিন গড়ে একজনের ধর্ষণের পরীক্ষা করা হয়েছে। এর আগে এ জেলায় ২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চার বছরে ১ হাজার ২৫০ জন নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে চার বছরের শিশু থেকে ৭০ বছরের বৃদ্ধা নারীও রয়েছেন। কুমেক হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের রেজিস্ট্রার ঘেঁটে এসব তথ্য জানা গেছে।
কুমেক ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লায় ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ধর্ষণের অভিযোগে কুমেক হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে পরীক্ষা করিয়েছেন মোট ৩৬৭ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১৭ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২৯ জন, মার্চে ৩৪ জন, এপ্রিলে ১২ জন, মে মাসে ১৫ জন, জুনে ২৭ জন, জুলাইয়ে ২৮ জন, আগস্টে ২৮ জন, সেপ্টেম্বরে ৪৩ জন, অক্টোবরে ৬১ জন, নভেম্বরে ৩৯ জন ও ডিসেম্বরে ৩৪ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের পরীক্ষা করিয়েছেন। জানা যায়, ধর্ষণের অভিযোগে এর আগে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে ২০১৬ সালে ২৬৭ জন, ২০১৭ সালে ৩৩০ জন, ২০১৮ সালে ২৯৭ জন ও ২০১৯ সালে ৩৫৬ জন নারী ও শিশুর পরীক্ষা করা হয়েছে। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. শারমিন সুলতানা বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে গত পাঁচ বছরে (২০১৬-২০২০) এখানে মোট ১ হাজার ৬১৭ জন নারী ও শিশুর পরীক্ষা করা হয়েছে। এ সময়ে ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ৩৬৭ জনের মধ্যে অক্টোবর মাসে সর্বোচ্চ ৬১ জনের ধর্ষণের পরীক্ষা করা হয়েছে। কুমিল্লার নারীনেত্রী সাইফুন নাহার (মিতা শিকদার) বলেন, জেলায় শিশু ও নারী ধর্ষণের মতো ঘটনা ক্রমে বেড়েই চলছে। ধর্ষকের প্রতি সর্বোচ্চ ঘৃণা সৃষ্টি ও শাস্তি নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগী, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পেশাজীবীসহ সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকেই সক্রিয় হতে হবে।