কাঠাপ্রতি ৯ লাখের জায়গায় নেওয়া হচ্ছে ৫ লাখ টাকা
এনামুল হক, খুলনা অফিস
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) ময়ূরী প্রকল্পের ২৪টি প্লট ভাগবাঁটোয়ারার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া প্রথমে তিন কাঠা প্লটের প্রতি কাঠার মূল্য ৯ লাখ টাকা এবং পাঁচ কাঠা প্লটের প্রতি কাঠা ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারিত থাকলেও বর্তমানে ভূমি উন্নয়ন ও প্রকল্পের কাজ শতকরা ৭০ ভাগ সমাপ্তের পর সেই প্লটের মূল্য নেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫ লাখ টাকা। এ নিয়ে কেডিএর ভেতরে-বাইরে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ঘটনার দিন বিকালেই ঐ সিদ্ধান্ত ফের স্থগিত করেছে মন্ত্রণালয়।
কেডিএ সূত্র জানায়, ২০১২ সালে খুলনা মহানগরীর পশ্চিম প্রান্তে সিটি বাইপাসসংলগ্ন আহসানাবাদ মৌজায় ৯০ একর জমির ওপর ময়ূরী নামে একটি আবাসিক এলাকা নির্মাণের উদ্যোগ নেয় কেডিএ। এই প্রকল্পে ৬৫৩টি প্লট রয়েছে। এর মধ্যে তিন কাঠার ৩৮৪টি ও পাঁচ কাঠার ২৬৯টি। শতভাগ প্লটই কোটার ভিত্তিতে দেওয়া হচ্ছে। কোটার মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৮ শতাংশ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৮ শতাংশ, প্রবাসীদের জন্য ৬ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫ শতাংশ, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের জন্য ৭ শতাংশ, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৫ শতাংশ, কেডিএর প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বোর্ড সদস্যদের জন্য ১০ শতাংশ, প্রকল্প এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের জন্য ৬ শতাংশ, বিশেষ পেশা (শিল্পী, সাংবাদিকসহ অন্যদের) ৩ শতাংশ, সংরক্ষিত কোটা ১৫ শতাংশ এবং সংসদ সদস্যদের জন্য ২ শতাংশ।
প্রসপেক্টাস অনুযায়ী এরই মধ্যে এসব প্লট লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্লট বরাদ্দ গ্রহীতা তিন কাঠা প্লটের প্রতি কাঠা জমির মূল্য ৯ লাখ টাকা এবং পাঁচ কাঠা প্লটের মূল্য প্রতি কাঠা ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে অর্থাত্ তিন কাঠা প্লট ২৭ লাখ ও পাঁচ কাঠার মূল্য ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে প্লট গ্রহণ করেছেন। তবে নানা কারণে আবেদন বাতিল হওয়ায় ২৪টি প্লট অবশিষ্ট রয়েছে, যা পূর্বে দাখিলকৃত আবেদনকারীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবেন বলে প্রসপেক্টাসে উল্লেখ রয়েছে।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের অবশিষ্ট ২৪টি প্লট গত ২০ ডিসেম্বর কেডিএর মিটিংয়ে অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ভাগবাঁটোয়ারা হয়। এছাড়া জনসাধারণের কাছে তিন কাঠা প্লটের প্রতি কাঠা জমির মূল্য ৯ লাখ টাকা এবং পাঁচ কাঠা প্লটের মূল্য প্রতি কাঠা ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে বিক্রি করলেও বর্তমানে ভূমি উন্নয়ন ও প্রকল্পের কাজ শতকরা ৭০ ভাগ সমাপ্তের পর সেই প্লটের মূল্য মাত্র ৫ লাখ টাকা হচ্ছে। ফলে সংস্থাটির মোটা অঙ্কের টাকা ক্ষতি হচ্ছে। তবে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, গত ২০ ডিসেম্বর বোর্ড মিটিংয়ে ২৪টি প্লট ভাগবাঁটোয়ারা হলেও ঐদিন বিকালে ফের তা স্থগিত করা হয়।
তবে প্লট বণ্টনের সত্যতা স্বীকার করে কেডিএর পরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহানুর আলম বলেন, বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই আলোকে প্লট দেওয়া হচ্ছে। স্থগিতের বিষয়টি আমার জানা নেই। বোর্ড মেম্বার আকরাম হোসেনসহ কয়েকজন মেম্বার বলেন, বোর্ড মিটিংয়ে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা ছিলেন। কেডিএ কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুষ্টিমেয় কিছু সদস্যের এ ব্যাপারে করণীয় কিছু থাকে না। কেডিএর চেয়ারম্যান আব্দুল মুকিম সরকার বলেন, এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেই। এটা বোর্ড সদস্যদের সিদ্ধান্ত।
এ ব্যাপারে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, চেয়ারম্যান যাওয়ার আগে এ ধরনের অবৈধ কাজ করছেন। এটা সম্পূর্ণ নীতিমালা পরিপন্থি।