গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জস্থ রংপুর সুগার মিলের ৯২ শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে মিলের এমডি নূরুল কবিরকে গতকাল শনিবার দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। সকাল ১০টায় এমডির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করেন শ্রমিকরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে দুপুর ১২টায় শ্রমিকরা এমডির কার্যালয়ের সামনে থেকে সরে যান।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। রংপুর সুগার মিলের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবু সুফিয়ান অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের প্রজ্ঞাপনকে পাশ কাটিয়ে কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে। সম্প্রতি আখ মাড়াই স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তে শ্রমিক কর্মচারী ও আখচাষিদের অসন্তোষের মুখে গত বৃহস্পতিবার হঠাত্ করে চিনিকলের কারাখানা বিভাগের ৯২ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে মৌখিক নির্দেশে চাকরিচ্যুতির কথা জানিয়ে দেন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরুল কবির। পহেলা জানুয়ারি থেকে তারা আর কাজে যোগ দিতে পারবেন না বলে জানান তিনি।
রংপুর সুগার মিলের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, গত ২০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থার চিফ অব পার্সোনেল মো. রফিকুল ইসলাম প্রেস রিলিজে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, আখ মাড়াই স্থগিত হওয়া চিনিকলগুলোর কোনো শ্রমিক-কর্মচারীর চাকরি যাবে না। তাদের বেতনভাতা আগের মতোই নিয়মিত প্রদান করা হবে। কিন্তু কোনো প্রজ্ঞাপন বা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এ চিনিকলের কারখানা বিভাগের ৯২ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে বলে ৩১ ডিসেম্বর মৌখিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কেউ মেনে নেবে না।
রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো নূরুল কবির জানিয়েছেন, আখ মাড়াই বন্ধ হওয়ায় কারখানায় কোনো কাজ না থাকায় (কাজ নাই, মজুরি নাই) ভিত্তিক ৯২ জন শ্রমিককে প্রথম পর্যায়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমি জরুরি কাজে ঢাকায় যাচ্ছি। সেখান থেকে অনুমতি নিয়ে এসে তাদের নিয়োগের জন্য চেষ্টা করব।