সাভারে নিখোঁজের ৭ দিন পর শ্রমিকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার 

সাভারে নিখোঁজের সাত দিন পর সাজেদুল ইসলাম নামের এক (১৮) এক গার্মেন্টস শ্রমিকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। 

রবিবার (৩ জানুয়ারি) ভোর রাতে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ঝাউচরের ধলেশ্বরী নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় পুলিশ এক হত্যাকারীকে গ্রেফতার করেছে। নিহত সাজেদুল নাটোর জেলার নলডাঙ্গা থানার বাশিলা মধ্যপাড়া এলাকার মোস্তাক শাহ্ এর ছেলে। তিনি তার বাবা মার সাথে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হরিণধরা এলাকার ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকুরী করত।  হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মা চার জনের নাম উল্লেখ করে সাভার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। 

এজাহার সূতে জানা গেছে, একই এলাকায় বসবাসের সুবাদে  ওই এলাকার তিন বখাটে মিলন (২৪), শাওন (২২) ও ইমনের (২৩) সাথে গার্মেন্টস শ্রমিক সাজেদুলের পরিচয় হয়। ওই তিন বখাটে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত ছিল। বিষয়টি সাজেদুল জানতে পারলে  সে তাদের অপকর্মের প্রতিবাদ জানায় এবং সকলকে জানিয়ে দেয়ার ভয় দেখায়। সবকিছু ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে ওই তিন বখাটে 
সাজেদুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৮ ডিসেম্বর পোশাক কারখানা ছুটির পরে সাজেদুল ইসলাম বাড়ি ফিরলে তাকে কৌশলে মোবাইল ফোনে ভাড়া বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ওই তিন বখাটে। এরপর ছুরিকাঘাতে ও কুপিয়ে হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে ইট দিয়ে বেধে গুম করার জন্য ঝাউচর এলাকার ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেয়। এরপর থেকে সাজেদুল নিখোঁজ ছিল।  

এরপর সাজেদুলের মা সাজেদা বেগম ছেলেকে না পেলে বিষয়টি জানিয়ে সাভার মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। নিহত সাজেদুলের ফোন রেকর্ড ট্রাক এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে  হত্যাকারী মিলনকে আটক করে। এরপর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গতকাল রবিবার ভোরে ধলেশ্বরী নদী থেকে ইট দিয়ে বাঁধা বস্তাবন্দি সাজেদুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  (ওসি) এএফএম সায়েদ জানান, নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অন্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।