নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড না থাকায় সড়কেই চলছে ওঠানামা!

বাকেরগঞ্জে নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড না থাকায় সড়কেই যাত্রী ওঠানামা করছে। এতে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা ও মাইক্রোবাস এলোপাতাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রীমন্ত নদীর ব্রিজের একেবারে ঢালে বরগুনা, পটুয়াখালী ও বাকেরগঞ্জের ত্রিমুখী রাস্তার সংযোগস্থলে মহাসড়কেই মূলত যাত্রীরা ওঠানামা করছে। পণ্যবাহী ট্রাক বা অন্য যানবাহনও মালামাল নামাচ্ছে একই জায়গায়। ফলে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। বাস চালক আবু মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাকেরগঞ্জে গাড়ি পার্কিংয়ের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় মহাসড়কের পাশেই যাত্রীদের ওঠানামা করাতে হচ্ছে। কাঁচামাল বহনকারী ট্রাক ড্রাইভার খোকন মিয়া বলেন, ‘লোড-আনলোডের নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় আমাদের মহাসড়কের পাশেই মালামাল নামাতে হয়। তাছাড়া দূরপাল্লার ট্রাকচালকদের বিশ্রাম নিতে হলেও মহাসড়কের একপাশে গাড়ি পার্কিংয়ের বিকল্প নেই।’

বরিশাল বিএম কলেজের ছাত্র রোমান আকন জানান, বাকেরগঞ্জ থেকে বরিশালে অনেক ছাত্রছাত্রী যাতায়াত করে। নির্দিষ্ট কোনো বাস স্টপেজ না থাকায় মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থেকে বাসে উঠতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বাকেরগঞ্জ থেকে প্রতিদিন পটুয়াখালী যাতায়াত করতে হয় এমন এক জন চাকরিজীবী আফজাল হোসেন বলেন, ‘বাকেরগঞ্জে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে একটি বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।’

বাকেরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কলেজটি বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের সঙ্গে। কলেজের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কর্মচারী ও অভিভাবকদের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত কলেজে আসতে এ মহাসড়কটি পার হতে হয়। তাছাড়া নির্দিষ্ট বাস স্ট্যান্ড না থাকায় গাড়ি কলেজের সামনে থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হয়। তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু মহাসড়কটি পৌরসভার মধ্য দিয়ে গেছে, তাই সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে কিছুদিন আগে পৌর মেয়রের সঙ্গে কথা হয়েছে।’

বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া বলেন, ‘একটি নির্ধারিত স্ট্যান্ড নির্মাণের জন্য আমরা যাবতীয় পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব স্ট্যান্ড নির্মাণ পূর্বক এ সমস্যার সমাধান করতে পারব বলে আশা রাখি।’