মিরসরাইয়ে প্রকাশ্যে কাটা হচ্ছে পাহাড়!

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কয়লা পশ্চিম সোনাই (জিলতলি) এলাকায় প্রতিদিনই নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড়। স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় পাহাড়গুলো কাটা হয় প্রকাশ্য দিবালোকে। পাহাড় কেটে সেই মাটি ট্রাক বোঝাই করে সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। সংরক্ষিত ঐ বনাঞ্চলে রাস্তা না থাকায় পাহাড় কাটা মাটি দিয়েই তৈরি করা হয়েছে অবৈধ রাস্তা। সেই রাস্তা পাহাড় কাটা মাটি নেওয়ার জন্যই ব্যবহূত হয়। পাহাড় কাটার সময় সিন্ডিকেটের ভাড়াটে লোকজন সার্বক্ষণিকভাবে অবৈধ পাহাড় কাটার তদারকি করে থাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, পাহাড় কাটার কাটার কারণে ধ্বংস হচ্ছে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য ও উজাড় হচ্ছে গাছপালা। প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউই পাহাড় কাটার প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।

সরজমিনে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের কয়লা এলাকার পশ্চিম সোনাইতে (জিলতলি) শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় সিন্ডিকেটের ঠিক করা শ্রমিকরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে একই সময়ে চারটি পাহাড় থেকে মাটি কেটে তুলে দিচ্ছে মিনি ট্রাকে। একটি মিনি ট্রাকে মাটি ভরাট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য আরেকটি মিনি ট্রাক দাঁড়িয়ে যায় মাটির জন্য। শ্রমিকরা পাহাড়ের উঁচু চূড়ায় উঠে কোদাল ও খোন্তার সাহায্যে ১৫/২০ মিনিটের মধ্যে একটি মিনি ট্রাক মাটি ভর্তি করে দেয়। এভাবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকে পাহাড় কাটার উত্সব। পাহাড় কেটে মাটি নেওয়ার কাজে যুক্ত এক মিনি ট্রাকচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে বলেন, পাহাড়ের মাটি কাটার সঙ্গে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও এলাকার কয়েক জন প্রভাবশালী ব্যক্তি সরাসরি জড়িত। তাদের নির্দেশেই তারা পাহাড়ের মাটি অন্য স্থানে নিয়ে যায়। প্রতিবার মাটি নেওয়ার জন্য একটি মিনি ট্রাকের চালক পান ৭০০ টাকা এবং মাটি কাটার শ্রমিকরা দৈনিক পেয়ে থাকেন ৫০০ টাকা। প্রতিদিন এ এলাকা থেকে গড়ে ১০০ ট্রাক মাটি বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।

পাহাড় কাটা সম্পর্কে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা অঞ্চলের পরিচালক মো. মোয়াজ্জম হোসাইন ইত্তেফাককে জানান, মিরসরাই উপজেলার পশ্চিম সোনাই (জিলতলি) এলাকায় পাহাড় কাটার বিষয়টি আমি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এই ব্যাপারে করেরহাট বিট কাম চেক স্টেশনের বন কর্মকর্তা মো. নঈমুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আমার আওতাধীন ১২০৯৪ একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী আমার লোকবল মাত্র আট জন। এর পরও খবর পেলেই আমি পাহাড় কাটাসহ সব ধরনের অবৈধ কাজের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। বর্তমানে যে স্থানে পাহাড় কাটা হচ্ছে, সেই স্থানে আমি নিজে গিয়ে পাহাড় কাটা বন্ধ করব। এই বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, পাহাড় কাটা কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যাবে না। পাহাড় কাটা বন্ধ হতেই হবে। এর ন্যূনতম কোনো সুযোগ নেই। এই বিষয়ে আমি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।