রায়পুরে বিলুপ্তির পথে দেশি মাছ

রায়পুর উপজেলার নদী, খাল, বিল ও ডোবা-জলাশয় থেকে বিলুপ্তির পথে দেশীয় প্রজাতির মাছ। অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার, খাল-বিল-ডোবা ভরাট, উন্মুক্ত জলাশয়ে সেচে ও বাঁধ নির্মাণসহ মাছের বিচরণক্ষেত্রের প্রতিকূলতা, পরিবেশ পরিবর্তনের কারণে এসব মাছ বিলুপ্তির পথে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের। এছাড়া কৃষিজমি থেকে রাসায়নিক পদার্থ বর্ষার সময় ও বিভিন্ন কারখানার বর্জ্য খালের মাধ্যমে নদী ও জলাশয়ে পড়ে পানি দূষিত হওয়ার কারণেও এসব মাছ কমছে।

রায়পুর উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মেঘনা, ডাকাতিয়া নদী ও খালসহ ছোট খাল-বিল মাছের প্রধান উত্স। একসময় এসব জলাশয়ের মাছ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা হতো। এক যুগ আগেও এ অঞ্চলে প্রায় ৬০ প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে নানদিয়া, রিটা, বাচা, ছেনুয়া, গাওড়া, নাপতিনী, বুইতা, বাঘাইড়, গোলসা, পাবদা, আইড়, নামাচান্দা, তারা বাইম, বড় বাইম, কালিবাউশ, দাড়কিনাসহ প্রায় ৫০ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে। দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ বিলুপ্তির কারণে স্থানীয় জেলেদের দুর্দিন যাচ্ছে।

স্থানীয় জেলে আনোয়ার মিয়া ও বাতেন জানান, আগে ছোট-খাটো জলাশয়ে বিভিন্ন ধরনের মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন বড় জলাশয়ে কই, শোল, শিং ও মাগুর মাছ ছাড়া অন্য প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় না। সে মাছের পরিমাণও কম। মাছ না পাওয়ায় এখন অনেক জেলে এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছে। জেলা মত্স্যজীবী সমিতির সভাপতি মোস্তফা ব্যাপারী জানান, অনিয়ন্ত্রিত জলাশয় ইজারার সঙ্গে কৃষি জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের কারণে দিনদিন কমছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। মত্স্য কর্মকর্তারা সঠিকভাবে মনিটরিং করলে দেশীয় প্রজাতির মাছ বাড়বে।  

রায়পুর উপজেলার মত্স্যকর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, খাল-বিল, ডোবা-জলাশয়গুলোর শ্রেণি পরিবর্তন করে ইজারা না দেওয়া এবং নদী, খাল-বিল, জলাশয়ে অভয়াশ্রম সৃষ্টি করে প্রজননের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। এছাড়া গণসচেতনতা তৈরি করে কৃষিজমিতে অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশকের ব্যবহার রোধ এবং মত্স্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ না করা গেলে বিপন্ন প্রজাতির এসব মাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। রায়পুরে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজননের সুযোগ তৈরির জন্য ডাকাতিয়া নদীতে দুটি স্থানে অভয়াশ্রম করার প্রস্তাব দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তারা চিঠি পাঠিয়েছেন। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে কাজ শুরু করবেন।