চলনবিল এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পাবদা মাছের চাষ। সংশ্লিষ্টরা জানান, খুব অল্প সময়ে সেখানে পাবদাচাষির সংখ্যা ১০০ জনে দাঁড়িয়েছে। গেল মৌসুমে ৫০০ টনের বেশি পাবদা উত্পাদিত হয়েছে। জানা গেছে, সাধারণত এক বিঘা আয়তনের একটি পুকুরে দেড় লাখ টাকা খরচ করে প্রায় ৩ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করা যায়। পুকুরপাড় থেকেই গড়ে ৩৩০ টাকা কেজি দরে পাবদা বিক্রি হয়।
পাবদা খামারি আব্দুল আওয়াল জানান, পাবদা মাছের গঠন ঠিক রাখতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয় দানাদার খাবার। বিক্রিতেও রয়েছে সুবিধা। ১৫০ কিংবা ২০০ মণ যে পরিমাণই মাছ ধরা হোক না কেন তা পুকুরপাড় থেকেই কিনে নিয়ে যান ঢাকা, বগুড়াসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা। ফলে লাভ এবং বিক্রয় সুবিধা পাওয়াই পাবদা চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে।
কয়েক জন মত্স্যচাষি জানান, পাবদা মাছের সঙ্গে আরো অন্যান্য মাছের চাষ করতে হয় পানি ঠিক রাখার জন্য। যাকে বলে মিশ্র চাষ। অপর এক খামারি জানান, পাবদা মাছ চাষে বর্তমানে বেশ আগ্রহ দেখা দিয়েছে। এ মাছ বিক্রি করতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। ১৫০ কিংবা ২০০ মণ মাছ পুকুরপাড় থেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে অনেক চাষি এখন এ মাছ চাষে ঝুঁকে পড়ছে।
মাছ রপ্তানিকারক রিগান জানান, প্রতি বছর চলনবিল এলাকা থেকে ৫০০/৬০০ টন পাবদা পাওয়া যায়। সেগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। স্থানীয়ভাবে প্যাকেটজাত হয়ে বেনাপোল হয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও যায় এ সব মাছ।
উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মোল্লাহ ওয়ালিউল্লাহ জানান, কৃষির যে কোনো সেক্টরের তুলনায় পাবদা চাষ লাভজনক। এই চাষ বৃদ্ধিতে নিয়মিত খামারিদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি বিক্রিতেও সহযোগিতা করছে মত্স্য বিভাগ। তিনি আরো জানান, উত্পাদিত এ সব পাবদা মাছ ভারতে এলসির মাধ্যমে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশীয় বিভিন্ন বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় ভালো লাভবান হচ্ছেন খামারিরা। সাধারণত মার্চ মাসের শুরুতে পুকুরে পাবদা পোনা ছাড়া হয় এবং ছয় মাস পর থেকে তা সংগ্রহের উপযোগী হয়।