ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান কার্যকর করার আহ্বান

ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান কার্যকরের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিজ্ঞজনেরা। গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদের মন্ত্রী হোস্টেলস্থ মিডিয়া সেন্টারে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তারা। সমাজকল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা (স্কাস) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শামসুল হক টুকু।

স্কাস চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাসের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যারমা দত্ত এমপি, জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য অপরাজিতা হক, স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাক্টিভিস্টস নেটওয়ার্ক (স্ক্যান) সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুল ও সাংবাদিক নিখিল ভদ্র। মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন পার্লামেন্টনিউজবিডি ডট কম সম্পাদক সাকিলা পারভীন।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, গত অর্ধযুগে সবচেয়ে বেশি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে ২০১৯ সালে। এ বছর দেশে ১ হাজার ৩৭০টি ধর্ষণ, ২৩৭টি গণধর্ষণসহ ৪ হাজার ৬২২টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। তবে করোনা মহামারিকালেও ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা কমেনি। গত বছরে ৩ হাজার ৪৪০ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৪ জনকে ধর্ষণ, ২৩৬ জনকে গণধর্ষণ ও ৩৩ জন ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া ২০০ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। আর ৪৩ জন শ্লীলতাহানি ও ৭৪ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এ সব অপরাধ কমিয়ে আনতে আইন ও ব্যবস্থাপনার সংস্কার এবং ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়েছে।

শামসুল হক টুকু বলেন, নারীর ওপর সহিংসতা বন্ধে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলো আলাদা আলাদাভাবে কাজ করছে। বেসরকারি সংস্থাগুলোও বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ ক্ষেত্রে সমন্বয়ের প্রয়োজন। নারী নির্যাতন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ মাদকের প্রভাব বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অ্যারমা দত্ত বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমাদের অঙ্গীকার হবে, সমাজে যেন একজন নারীও নির্যাতনের শিকার না হন। এ জন্য আইনের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। নির্যাতন বন্ধে স্থানীয় সরকারকে আরো বেশি সক্রিয় করতে হবে।