পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এখন বড় চ্যালেঞ্জ। চলতি বছর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চাই। এ লক্ষ্যে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর দপ্তরের মন্ত্রী টিন্ট সোয়েকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গতকাল রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
২০১৭ সালের আগস্টের পর ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমার বারবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানালেও এখনো একজন রোহিঙ্গাও ফিরে যায়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নতুন ইংরেজি বর্ষের প্রথমদিনে মিয়ানমারের মন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে এ বছর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠিতে তাদের সব প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়েছি। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে নিরাপত্তা দিয়ে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে। কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি। আমি বলেছি এজন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার। নতুন বছরে আমরা আশা করি যে, আপনারা আপনাদের কথা রাখবেন।
১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে প্রতিশ্রুতি দিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা বলেছি, অতীতে কথা রেখেছেন এবং এখন নিজেদের লোকগুলো নিয়ে যান। যদি এদের ফিরিয়ে না নেওয়া হয়, তবে এ অঞ্চলে অশান্তির আশঙ্কা আছে। মন্ত্রী মোমেন জানান, সমস্যার সমাধান একমাত্র মিয়ানমারই করতে পারে এবং তাদের ব্যবহারের পরিবর্তন হচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক ও বহুপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। এমনকি আইনি কাঠামোর মধ্যেও কাজ করছি। যত ব্যবস্থা আছে সব নিয়ে কাজ করছি।
মিয়ানমারকে যাচাই-বাছাই করার জন্য ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গার তালিকা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে তারা ২৮ হাজার যাচাই-বাছাই করেছে। তারা অত্যন্ত ধীরগতিতে ব্যবস্থা নিচ্ছে। ত্রিপক্ষীয় বৈঠক বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমার ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থার উদ্যোক্তা হচ্ছে চীন। তারা এটি নিয়ে কাজ করছে। আমরা সবসময় তৈরি। তারা যখন তারিখ দেবে আমরা বসব। নতুন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাপান জানিয়ে তিনি বলেন, জাপানের অনেক বড় বিনিয়োগ আছে মিয়ানমারে। ভারত আমাদের বলেছে, তারা মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ করবে এবং সহায়তা করবে। তারাও চায় রোহিঙ্গারা ফেরত যাক। ভারত, জাপান, চীন সবাই আমাদের সঙ্গে একমত যে মিয়ানমারেই সমস্যার সমাধান নিহিত আছে।