নিটল নিলয় গ্রুপ এবং দেশের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পাঠাও নারী রাইডারদের পাশে থাকায় অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে। জীবন সংগ্রামে সকল সাহসী নারী রাইডার যোদ্ধাদের সন্মান জানাতে নিটল নিলয় গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এনআইটিএস সার্ভিস প্রা. লি. এবং পাঠাও এক অভিনন্দন সভার আয়োজন করে। এতে এনআইটিএস সার্ভিস -এর সিবিও অরূপ কুমার চাকী এবং পাঠাও এর সিইও হুসাইন এম ইলিয়াসসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
নারী রাইডারদের দেখানো পথেই নানা প্রতিকুলতা দূর করে অনেক নারীই এই পেশায় আসছেন এবং সমাজে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে অবদান রাখছেন বলে জানান উপস্থিত বক্তারা।
সভায় পাঠাও এর সেরা চার জন নারী রাইডারদের তাদের সাহসী পদক্ষেপের জন্য সন্মাননা প্রদান করা হয়। পরে সেরা চার নারী রাইডারদের বাইক এর সুরক্ষার জন্য তাদের বাইকে, বাইক ট্র্যাকিং ডিভাইস এনট্র্যাক (NTrack), মটো (Moto) ইন্সটল করে দেয়া হয়। উভয় প্রতিষ্ঠানের নারী রাইডারদের ও তাদের বাইক এর সুরক্ষার জন্য এনট্র্যাক, মটো ডিভাইসে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫% ছাড় ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে হুসাইন এম ইলিয়াস বলেন, ‘এই উদ্যোগ গ্রহণের ফলে আমাদের রাইডাররা বেশ উপকৃত হবেন বলে আশা করছি কারণ এই সিস্টেমটির মাধ্যমে বাইকের লাইভ লোকেশন জানা যাবে। ফলে রাইডাররা বাইক চুরি হওয়ার কোন দুশ্চিন্তা ছাড়াই রাইড দিতে পারবেন।’
পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও এই পেশায় আগ্রহী করে তুলতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। আর নারীদের এই পেশায় আসার পথে অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ হলো বাইকের নিরাপত্তা। এনট্র্যাকার গাড়ী এবং নৌযান এর পাশাপাশি বাইক এর ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারকরীদের জন্য এনট্র্যাক, মটো নামে আধুনিক প্রযুক্তির সেবাটি নিয়ে এসেছে। এই প্রযুক্তিতে বাইকের অবস্থান জানা যায় তাত্ক্ষণিকভাবে। ফলে বাইক চুরি হওয়ার শঙ্কা থাকে না বললেই চলে। কোনোভাবে বাইক হাতছাড়া হলেও তা খুঁজে বের করা যায়।
সম্প্রতি শাহনাজ আক্তার নামের একজন নারী রাইডারের স্কুটি চুরি হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র নারী রাইডারদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে। অভিনব কৌশলে শাহনাজ আক্তারে বাইক নিয়ে পালিয়ে যায় জুবাইদুল ইসলাম নামের এক প্রতারক। এ বিষেয় শাহনাজ বলেন, ‘একটা চাকরি দেবে বলছিল লোকটা। লোকটা আমাকে বলেছিল পার্মানেন্ট চাকরির ব্যবস্থা করে দেবে। খামারবাড়িতে কিছু বস আর ম্যাডামদের আনা নেয়া করতে হবে। এত শিক্ষিত, নিজেও পাঠাও চালায়।’ এক ম্যাডামকে নিতে যেতে হবে বলে জুবাইদুল ইসলাম তাকে ডেকে পাঠায়।
শাহানাজকে চা খেতে দিয়ে স্কুটি চালাতে কেমন লাগে সেটা দেখতে চেয়ে পালিয়েছে জুবাইদুল। চোখের সামনে থেকে বাইকটা নিয়ে চলে যায় বলে জানান শাহনাজ আক্তার। ঢাকার শেরেবাংলানগর এলাকা তেকে তার স্কুটিটি চুরি হয়। বাইকটি এভাবে চুরি যাওয়ায় অসম্ভবভাবে ভেঙ্গে পড়েন তিনি। এরপর থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন। এর পর পুলিশের সহায়তায় নারয়ণগঞ্জ এলাকা থেকে স্কুটিটি উদ্ধার করা হয়।