মিলন রহমান, স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
আগাম জাতের আলু চাষ করে এবার ভালো দাম পেয়ে বগুড়া জেলার কৃষকরা খুশি। আলু চাষে খরচ বাদে বিঘাপ্রতি লাভ হচ্ছে ৩০-৩৫ হাজার টাকা। আলু উত্পাদনে বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলা অন্য জেলার তুলনায় অনেক এগিয়ে। এ কারণে এ দুই জেলায় গড়ে উঠেছে ৩০টি হিমাগার। গত বছর চাষ করা আলুর ভালো দাম পাওয়ায় এবারও কৃষকেরা আলু চাষ করেছেন বেশি।
বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বগুড়া জেলায় ৫৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলুও রয়েছে। আগাম জাতের ক্যারেট ও লাল (পাকরি) জাতের আলু হাটে বিক্রি হচ্ছে। বগুড়ার তথা উত্তরাঞ্চলের বৃহত্ সবজির হাট মহাস্থান। এই সবজির হাটে আগাম আলুর আমদানি দিনে দিনে বাড়ছে। আলুচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে আগাম জাতের ক্যারেজ ও লাল গুটি আলু বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ছোট-বড় আকারভেদে ক্যারেজ আলু প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। আর লাল জাতের গুটি (পাকরি) আলু কেনাবেচা হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা মণ দরে।
কৃষকেরা জানান, আবাদ মৌসুমে দুবার আলু চাষ করে থাকেন চাষিরা। পলি এলাকার ভিটেমাটিতে (দোআঁশ ) এবং আমন ধান কাটার পর ব্যাপক আলু চাষ হয় এঁটেল মাটির জমিতে। এঁটেল মাটিতে আলুর বিঘাপ্রতি ফলনও হয় অনেক বেশি। আগাম জাতের আলুর ফলন কম হয়। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া গ্রামের কৃষক গত শনিবার মহাস্থান হাটে লাল আলু বিক্রি করতে এসেছেন। তিনি বলেন, এবার আগাম জাতের আলুর দাম ভালোই পাওয়া যাচ্ছে। তিনি চার বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। প্রতি মণ আলু বিক্রি করছেন ১ হাজার ৬০০ টাকায়। এতে করে বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লাভ থাকবে। তবে এই বাজার থাকবে না। আলুর আমদানি বেড়ে গেলে দামও কমে যাবে। একই উপজেলার রায়নগর গ্রামের কৃষক সান্না মিয়া আলু বিক্রি করতে এসেছেন মহাস্থান হাটে। তিনিও জানালেন, আগাম আলুর ভালো দাম পাওয়ায় তিনি খুশি।
জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের কৃষক ওমর আলী, ভোলা মিয়া ও আমিড়া গ্রামের নুরুননবী জানান, গত বছরের তুলনায় এ মৌসুমে আলুবীজের দাম ছিল খুব বেশি। কৃষিশ্রমিকের মজুরিও বেশি। সব মিলে এক বিঘা জমিতে রাসায়নিক সার, শ্রমিক, কীটনাশক ওষুধসহ আলু চাষ করতে ১৮-২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিঘা প্রতি ফলন হচ্ছে ৩৫-৪৫ মণ। গত শুক্রবার জামালগঞ্জ হাটে ক্যারেজ আলু ১ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। কোনো কোনো বছর লাভ হয় না। এবার দাম এখন পর্যন্ত ভালো আছে। খরচ বাদে বিঘায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। দিন যত যাবে, আলুর আমদানি বেশি হবে, দামও কমে আসবে।
বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. ফরিদুর রহমান জানান, বগুড়া জেলায় চলতি মৌসুমে ৫৭ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে এবার।