নানা আয়োজনে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা

বিশেষ প্রতিনিধি

নানা আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে বলিষ্ঠ নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়েছে। দিনটি উপলক্ষ্যে গতকাল সোমবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, কেক কাটা, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সকাল সাড়ে ৭টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ও দেশব্যাপী সংগঠনের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সংগঠনের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এসময় কেন্দ্রীয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এরপরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে কেক কাটেন ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

প্রতিবার বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন করা হলেও এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পরিবর্তন আনা হয়েছিল কর্মসূচিতেও। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অন্য কর্মসূচির মধ্যে সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের প্রতিনিধি টিমের শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেআইবি মিলনায়তনে এসময় ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভাটি জেলা, মহানগর ও উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে প্রজেক্টর এবং সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকন্যার ছাত্র সমাজের উদ্দেশ্যে মূল্যবান ভাষণ সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়। ছাত্রলীগের অন্তর্গত জেলা, মহানগর এবং সব উপজেলার নেতাকর্মীকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে ছাত্রলীগের আলোচনাসভায় সংযুক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল।

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল বুধবার ঢাবির টিএসসিসংলগ্ন স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে সকাল ১১টায় দুস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হবে। এছাড়া ৮ জানুয়ারি ঢাবির অপরাজেয় বাংলা সংলগ্ন বটতলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পালন করবে সংগঠনটি। এসব কর্মসূচি সব ইউনিটে সুবিধাজনক সময়ে পালন করা হবে।

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তার নেতৃত্বেই ঐ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়। তত্কালীন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেরণা ও পৃষ্ঠপোষকতায় এক ঝাঁক মেধাবী তরুণের উদ্যোগে সেদিন যাত্রা শুরু করে ছাত্রলীগ। ৭৩ বছরে ছাত্রলীগের ইতিহাস হচ্ছে জাতির ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা, মুক্তির স্বপ্ন বাস্তবায়ন, স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনা, গণতন্ত্র প্রগতির সংগ্রামকে বাস্তবে রূপদানের ইতিহাস।