যে কোনো আন্দোলনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বেশি রক্ত দিয়েছে

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছাত্রলীগ আমাদের দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন যে কোনো আন্দোলনেই সব থেকে বেশি রক্ত দিয়েছে, শহিদ হয়েছে আমাদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অন্য কোনো দলে এটা খুব বেশি পাওয়া যাবে না।

গতকাল সোমবার বিকালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করার পর জেনারেল জিয়াউর রহমান যখন অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় বসলেন, তার আগে তিনি মদত দিয়েছিলেন খন্দকার মোশতাককে। পরে মোশতাককে হটিয়ে নিজে রাষ্ট্রপতি হলেন। এরপর তার কাজ ছিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম, অত্যাচার করা। একদিকে তাদের প্রলোভন দিয়ে দলে টানার চেষ্টা আর সেটা না হলে তাদের গুম, খুন-হত্যা করা।’

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ অসহযোগ আন্দোলন করে। অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে যুদ্ধ করে আমরা বিজয় অর্জন করি। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী চক্র, দেশীয় এবং বিদেশি এজেন্টরা সব সময় সক্রিয় ছিল। বঙ্গবন্ধু যে সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন এ সময়ের মধ্যে একটা স্বাধীন দেশকে গড়ে তোলার সব কাজের ভিত্তিটাই তিনি তৈরি করে দিয়ে যান।

করোনা ভাইরাস মহামারিকালে ছাত্রলীগের ভূমিকার প্রশংসা করে সংগঠনটির নেতাকর্মীদেরকে সমালোচনা উপেক্ষা করে কাজ করে যেতে বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘তোমরা যে কাজগুলো করে গেছ, তার জন্য সব সময় আমরা সাধুবাদ জানাই। আমি জানি হয়তো ক্ষেত্রবিশেষে কোথাও কোথাও দুই-একটা ঘটনা ঘটে। আর আমাদের কিছু পত্রপত্রিকা আছে, যতই ভালো কাজ কর, সেটা লেখার তাদের যোগ্যতা নেই। যদি কোথাও এতটুকু খুঁত পায়, সেটিকে বড় করে লিখতে পারে। এটা তাদের মন-মানসিকতার দৈন্যতা বলেই আমি মনে করি। কাজেই ওগুলো আমি বেশি একটা হিসেবে ধরি না। আমি দেখি বৃক্ষরোপণ করা, ধান কেটে কৃষককে সহযোগিতা করা বা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সাহায্য করা, ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া, ঝড়ের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এই যে মানুষের সেবার জন্য কাজগুলো করে যাচ্ছ, সেটাই হচ্ছে বড় কাজ।’

বাংলাদেশের প্রতিটি অর্জনে ছাত্রলীগের অগ্রণী ভূমিকার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই ঐতিহ্যের কথা মনে রেখে এই সংগঠনটাকে শক্তিশালী করে তোমরা গড়ে তুলবে। সেটাই আমরা চাই।’ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে, জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে যে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে, সেই সফল হবে। আর যদি অর্থ-সম্পদের দিকে নজর চলে যায়, কখনো সফল হতে পারবে না।’

আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তৈরি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্রলীগের বয়স ৭৩ বছর, আমিও ৭৫-এ পা দিয়েছি। আমরা কতদিন আর চলবো। তোমাদেরকেই কিন্তু সামনে নেতৃত্ব দিতে হবে। সেইভাবে তোমরা নিজেদেরকে গড়ে তুলবে।’

আলোচনাসভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বক্তব্য রাখেন।