নলছিটিতে টোল প্লাজা কর্মীকে গলা কেটে হত্যা

পুরোনো বিরোধের জেরে ঝালকাঠির নলছিটিতে আনিস বিশ্বাস রুম্মান (১৮) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। রবিবার রাতে উপজেলার দপদপিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রুম্মান শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর টোল প্লাজায় ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন। সে দপদপিয়া গ্রামের সত্তার বিশ্বাসের ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, প্রতিবেশী আল মামুন ও রানা হাওলাদারদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল তাদের। রবিবার রুম্মানের চাচা মুন্না বিশ্বাসের সঙ্গে চায়ের দোকানে বসে কথার কাটাকাটি হয় আল মামুনের ভাগিনা রিয়াদের। বিষয়টি রিয়াদ তার স্বজনদের জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বিকাল থেকে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় মুন্নাদের বাড়ির আশপাশে। রুম্মান রাতে বাড়ির সামনে বের হলে তাকে ঘিরে ফেলে আল মামুন, রিয়াদ, বাপ্পি হাওলাদারসহ ১০-১২ জন যুবক। বাড়ির সামনের রাস্তায় ফেলে রুম্মানকে বেধড়ক মারধর করে একপর্যায় গলা কেটে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। চিত্কার শুনে তার পরিবারের লোকজন গুরুতর অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক রুম্মানকে মৃত বলে জানিয়ে দেন।

রুম্মানের চাচাতো ভাই আজিজ বিশ্বাস বলেন, আল মামুনের বাহিনী রুম্মানকে ধরে নিয়ে যায়। আমি ও আমার ভাবি তাদের বাধা দিলেও শোনেনি। পরে টেনেহিঁচড়ে তারা রুম্মানকে বাড়ির সামনের রাস্তায় নিয়ে যায়। আমরাও তাদের পেছনে যাই। বাপ্পি নামের একটি ছেলে আমাদের চোখের সামনেই গলায় দা দিয়ে আঘাত করে।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে নিহতের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করে। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

যুবলীগ কর্মীর হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন

ঝালকাঠির নলছিটিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুবলীগ কর্মী আসাদুজ্জামান খান পলাশের একটি হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন ও পায়ের রগ কেটে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। রবিবার রাতে উপজেলার আমতলী গ্রামের সরকারি বাড়ির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাতেই ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত পলাশ মোল্লারহাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এসকেন্দার আলী খানের ছেলে।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আক্কাস আলী সরদার বলেন, রাতে কে বা কারা পলাশকে মেরেছে, তা আমাদের জানা নেই। আমি নিজেই অসুস্থ, আমাকে কুপিয়ে তারা হত্যা করতে চেয়েছিল। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।  নলছিটি থানার ওসি বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য মোল্লারহাট বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।