সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে হত্যা মামলার আসামির সঙ্গে আপস

সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে এসে চট্টগ্রামে আসামির সঙ্গে আপস করার বিষয়টি উদ্বেগজনক মর্মে ঐ বাদির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার এই আদেশ দেন। আদালত বলেছে, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার অধীনে দায়েরকৃত মামলা আপসের সুযোগ আছে কি? একজন ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি তার মরদেহ পাওয়া গেছে। সেই ঘটনায় করা মামলায় আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে তার বর্ণনা রয়েছে। এই মামলা কীভাবে আপস হয়। হাইকোর্টের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশিরউল্লাহ।

মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ফটিকছড়ি এলাকার রমানন্দ্র পালিত (৬৫) অবসরে গিয়ে যে টাকা পেয়েছিলেন, তা ধার দেন একই এলাকার মো. ফোরকান নামে এক ব্যক্তিকে। কিন্তু ধারের টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ২০০৫ সালে রমানন্দ্রকে হত্যা করেন ফোরকান। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ের জামাই বিপ্লব খাস্তগীর হাটহাজারী থানায় হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি ফোরকান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে খুনের বর্ণনা দেন।

ইতিমধ্যে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে চট্টগ্রামের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। তিন জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই পর্যায়ে মামলার বাদি নিম্ন আদালতে আপসনামা দিয়ে বলছেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এই মামলা করা হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্ততায় আপসনামা করেছি। এখন এই মামলা চালানোর আর কোনো প্রয়োজন নেই। আসামি জামিন পেলেও কোনো আপত্তি নেই। আসামির সঙ্গে বাদির এই আপসনামা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বাদির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশের পাশাপাশি আসামি ফোরকানকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতে আসামির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জেডআই খান পান্না।