ইরানের হাতে আটক ট্যাংকার ছেড়ে দেওয়ার আহবান দক্ষিণ কোরিয়ার

বিবিসি ও রয়টার্স

ইরানের হাতে আটক ট্যাংকারটি ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরীয় কর্মকর্তারা। রাসায়নিক ছড়িয়ে পারস্য উপসাগর দূষিত করার অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ট্যাংকার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের নৌবাহিনী আটক করেছে বলে সোমবার ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো একথা জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে ইরানের তহবিল জব্দ থাকা নিয়ে তেহরান ও সিউলের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্যাংকারটি আটক করা হয়।

দক্ষিণ কোরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাং কিয়াং-হো সাংবাদিকদের বলেছেন, ট্যাংকারটি এবং এর ক্রু ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের নাগরিকদের মুক্তি নিশ্চিত করতে তার দেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের দূতাবাস ও ইরানে দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসের মধ্যে কি হচ্ছে আমরা তা বোঝার চেষ্টা করছি এবং পরিস্থিতি অনুধাবনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’ এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইরান সফরে যাবেন বলে একটি সূত্রে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী চোই জং-কুনের সফরের পরিকল্পনাটি এখনো ‘অস্পষ্ট’।

এরই মধ্যে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম আটক ট্যাংকারের ছবি প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, ‘হানকুক চেমি’ ট্যাংকারকে পাহারা দিয়ে নিয়ে আসছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর স্পিড বোট। ট্যাংকারটিতে ৭২ হাজার টন ইথানল রয়েছে বলে জানানো হয়েছে খবরে। ট্যাংকারের সঙ্গে আটক করা হয়েছে এর ক্রুদেরকেও। তবে তাদের সংখ্যা কত তা জানানো হয়নি। ট্যাংকারটি রাখা হয়েছে ইরানের বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসে।

ব্রিটিশ ফার্ম আম্ব্রি জানিয়েছে, ডিএম শিপিং কোম্পানির মালিকানাধীন দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকাবাহী ট্যাংকারটি সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর জুবাইলের পেট্রোলিয়াম কেমিক্যাল টারমিনাল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। গন্তব্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর। যাত্রাপথে খুব সম্ভবত হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারটি ইরানি বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক পরিবহনের নিরাপত্তা বিষয়ক আরেকটি ফার্ম ড্রায়াড গ্লোবাল। বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম বহর এ ঘটনার বিষয়ে অবগত আছে এবং পরিস্থিতি নজরে রেখেছে বলে জানিয়েছেন এক মুখপাত্র।