সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে ডিএসসিসির সাময়িক বরখাস্তকৃত কাউন্সিলর ইরফান সেলিমকে জামিন দিয়েছে আদালত। মোবাইল কোর্টের সাজা দেওয়া দুই মামলায় গতকাল মঙ্গলবার তাকে জামিন দেন ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।
এদিকে, র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, ইরফান সেলিমের বাড়িতে মাদক ও অস্ত্র পাওয়ার ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছিল। পরে পুলিশ তদন্ত করে যা পেয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন দিয়েছে। এটা এখন আদালতের বিচারিক বিষয়। এ বিষয়ে আমরা কথা বলতে চাই না।
ইরফান সেলিমের আইনজীবী প্রাণনাথ বলেন, ‘আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছিলাম। মাদক সংক্রান্ত ও ওয়াকিটকি রাখার অভিযোগে দেওয়া সাজার মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন।’
মদ্যপান ও অবৈধ ওয়াকিটকি ব্যবহার করার দুটি অভিযোগে গত ২৬ অক্টোবর ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী মো. জাহিদকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেয় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। র্যাব সদর দপ্তরের তত্কালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম এই সাজা দেন। এদিকে ইরফান সেলিমকে অব্যাহতির সুপারিশ করে সোমবার অস্ত্র ও মাদক মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে ‘র্যাব সেবা সপ্তাহ’ রক্তদান কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, আমরা আমাদের অভিযান সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালনা করেছি। অভিযানে যেসব জিনিস আমরা পেয়েছি তার ভিত্তিতেই মামলা করেছি। পরে পুলিশ তদন্ত করে যা পেয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ অক্টোবর রাতে ধানমন্ডিতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লে. ওয়াসিম খানকে মারধর করেন সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের গাড়িতে থাকা লোকজন। পরদিন ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ঐ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা। মামলায় মোহাম্মদ ইরফান সেলিম, তার দেহরক্ষী জাহিদ, মদিনা ডেভেলপারসের প্রটোকল কর্মকর্তা এবি সিদ্দিক ও গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা তিন জনকে আসামি করা হয়। পরে ২৬ অক্টোবর দুপুরে র্যাব পুরান ঢাকার চকবাজারের দেবীদাস লেনে হাজি সেলিমের বাসায় অভিযান চালায়। র্যাব ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে হেফাজতে নেয়। বাসায় অবৈধভাবে মদ ও ওয়াকিটকি রাখার দায়ে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের দুই জনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন। পরে মাদক ও অস্ত্র আইনে তাদের বিরুদ্ধে দুটি করে মোট চারটি মামলা দায়ের করে র্যাব।