কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকসহ ১১ মামলার আসামিকে আটক করে থানায় নেওয়ার সময় পথে গতিরোধ করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় ১ জন মাদক কারবারি নিহত ও ৩ জন পুলিশ আহত হয়েছে। এই ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার টেকনাফ পরিদর্শন করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে টেকনাফ মডেল থানার একদল পুলিশ সদর ইউনিয়নের মিঠা পানিরছড়ার হাজী গোলাম হোসেনের পুত্র, মাদকসহ ১১টি মামলার আসামি শামসুল আলমকে (৩৭) আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এসময় খবর ছড়িয়ে পড়ে একদল অপহরণকারী শামসুকে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। তখন তাকে উদ্ধার করার জন্য সশস্ত্র একটি গ্রুপ সিএনজি গাড়ির গতিরোধ করে ধৃত শামসুকে ছিনিতে নিতে গিয়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশের এএসআই মো. রতন মিয়া,শরীফুল,কনস্টেবল বলরাম আহত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলিবর্ষণ করলে হাজী গোলাম হোসেনের পুত্র ও ২টি মামলার পলাতক আসামি খোরশেদ আলম (২২) গুলিবিদ্ধ হয়।
তখন আহত পুলিশ সদস্য এবং গুলিবিদ্ধ যুবককে চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুলিবিদ্ধ খোরশেদকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এই ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান এবং উখিয়া সার্কেলের এএসপি শাকিল আহমেদ টেকনাফ এসে আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে হাসপাতালে যান। এরপর আহত পুলিশ সদস্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করে মৃত যুবকের পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।
আরো পড়ুনঃ মওদুদ আহমদের অবস্থা স্থিতিশীল: ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন
এ বিষয়ে নিহতের ভাই নুরুল আলম সংবাদ কর্মীদের জানান, আমার ভাই শামসুল আলমকে কে বা কারা সিএনজিতে করে নিয়ে যাচ্ছে এই খবরটি শুনার পর কয়েকজন শামসুকে উদ্ধার করার জন্য গেলে একটি সিএনজির ভিতর থেকে গুলি চালালে ভাই খোরশেদ গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. হাফিজুর রহমান জানান, গত মঙ্গলবার রাতে টেকনাফ মডেল থানার একদল পুলিশ সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া থেকে মাদক মামলাসহ ১১টি মামলার পলাতক আসামি মাদক কারবারী শামসুল আলমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসার পথে মিঠাপানিছড়ায় পৌঁছলে আসামির সহযোগীরা অস্ত্রাদি নিয়ে ব্যারিকেড দেয় এবং আটক শামসুকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা চালালে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। উভয় পক্ষের গোলাগুলিতে পুলিশের ৩ সদস্য আহত এবং খোরশেদ আলম নামে যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে মারা যায়। নিহত যুবকের বিরুদ্ধে ২টি মামলা রয়েছে।
ইত্তেফাক/এমএএম