ডেল্টা স্পিনার্সের আর্থিক অবনতির ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএসইসি

 ইত্তেফাক রিপোর্ট

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ায় প্রায় দুই বছর ধরে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করছে পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত ডেল্টা স্পিনার্স। স্বতন্ত্র পরিচালকসহ পরিচালনা পর্ষদের ব্যর্থতার কারণে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এ কারণে আর্থিক অবনতির কারণ খতিয়ে দেখছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

অসংগতির বিষয়ে ডেল্টা স্পিনার্সেন স্বতন্ত্র পরিচালকসহ পরিচালনা পর্ষদের ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএসইসি। গত ২৭ ডিসেম্বর কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক, পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে ডেল্টা স্পিনার্স ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করছে। দীর্ঘসময় ঐ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করা কোম্পানির আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে ব্যর্থ হয়েছেন স্বতন্ত্র পরিচালকসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। এছাড়া কোম্পানি আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতেও ব্যর্থ হয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে টানা ৪ বছর ডেল্টা স্পিনার্স শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ দেয়নি।

একই সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও সিকিউরিটিজ আইন যথাযথভাবে পরিপালন করছে না এবং প্রতিনিয়তই আইন লঙ্ঘন করে যাচ্ছে ডেল্টা স্পিনার্স। কোম্পানির ব্যর্থতার কারণে ২০১৯ সাল থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ১৯৯৬-এর ১১ (২) ধারা অনুযায়ী ডেল্টা স্পিনার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সব পরিচালক, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) এবং কোম্পানি সচিবকে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি। ডেল্টা স্পিনার্স ১৯৯৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। তালিকাভুক্তির পর থেকে ২০১২, ২০১৬ ও ২০১৭ সাল কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের শুধু বোনাস লভ্যাংশই দিয়েছে। শুধু একবার ২০১৫ সালে কোম্পানি নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ১৯৯৬, ২০১০ ও ২০১৪ সালের কোম্পানির রাইট শেয়ার ছেড়েও অর্থ সংগ্রহ করে কোম্পানিটি।