প্রথম ফাইনালের মঞ্চে সাইফ স্পোর্টিং

সাইফ স্পোর্টিং ৩

চট্ট. আবাহনী ০

স্পোর্টস রিপোর্টার

ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনালে উঠার টিকিট নিশ্চিত করেছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। প্রথমবার ফাইনালে উঠার স্বপ্নটা পূরণ করেছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে সাইফ স্পোর্টিং ৩-০ গোলে ২০১৭ ফেডকাপের ফাইনালে খেলা চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পায়। আজ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংস মুখোমুখি হবে।

৩ গোলে হারলেও সাইফের বিপক্ষে দারুণ লড়াই হয়েছে। আক্রমণভাগে চট্টগ্রাম আবাহনীর যেমন ফিনিশিং ছিল না। তেমনি সাইফের গোল মুখে গিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর আক্রমণ মুখ থুবড়ে পড়েছে। ভাগ্যটাও ভালো ছিল না চট্টলার দলের। গোল শোধ করার মতো সুযোগ পেয়েও লাভ হয়নি। ক্রসবারে লেগেছে রাকিবের শট। দুই বার সহজ সুযোগ নষ্ট করেন রাকিব। গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হয় ফরোয়ার্ডরা।

চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ মারুফুল হক। সাইফের বেলজিয়ান কোচ পল যোসেফ পুট। ইউরোপীয়ান এই কোচ এবং উয়েফা লাইসেন্সধারী কোচ মারুফুল হকের সঙ্গে ডাগ আউটে একটা ফুটবল যুদ্ধ চলবে সেটা আগেই জানা। এই মাঠ, এই পরিবেশ এবং খেলোয়াড় সবই চেনা মারুফের। ততটা চেনা হয়ে উঠেনি পলপুটের। দুজনের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই হবে সেটা আগেই অনুমেয় ছিল। মারফুলের দুর্ভাগ্য হচ্ছে ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে বসেছে। আইভরিকোস্টের ডিফেন্ডার চার্লস দিদিয়ের দুর্বলতার সুযোগে সহজেই গোল করেন সাইফের এমানুয়েল আরিওয়াচুকু ১-০। এই গোলটাকে দায়ী করেন মারুফুল হক। তার কাছে মনে হচ্ছে এত দ্রুত গোল খেয়ে ফেললে ম্যাচে ফেরাটাও কঠিন হয়ে যায়। সত্যি-ই চট্টগ্রাম আবাহনীর জন্য ম্যাচে ফেরা কঠিন-ই ছিল। গোল শোধ করার লড়াইটা চালিয়ে গেলেও পারছিল না রাজু, মানিক মোল্লা, মান্নাফ রাব্বি, রকিবরা।

সাইফ খুব কৌশলে খেলেছে। দ্বিতীয়ার্ধে চট্টগ্রাম আবাহনী আক্রমণ করলেও ছয় জন ফুটবলার নিচে নেমে রক্ষণ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে সাইফ। সুযোগ পেলে কাউন্টার আক্রমণে যায়। মঞ্জুরুর রহমান, নাসির, উজবেক ডিফেন্ডার শুকুর আলীদের রক্ষণ ফাটল ধরিয়ে ৭২ মিনিটে আরেক নাইজেরিয়ান আকিচুকু কেনেথ গোল করেন ২-০। চট্টগ্রাম আবাহনী বুঝে যায় আর হবে না। খেলোয়াড়রা চেষ্টা করছিল যদি গোলটা শোধ করা যায়, তাহলে ম্যাচটা অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়াবে। সেই সুযোগ দেয়নি সাইফ। সাইফের রিজার্ভ বেঞ্চের প্লেয়ার আল আমিন। ৬৫ মিনিটে ফাহিমের বদলে মাঠে নেমেছিলেন। ৮০ মিনিটে চট্টগ্রাম আবাহনীর আইভরিকোস্টের চার্লস দিদিয়েরের সঙ্গে বল ট্যাকলিংয়ে পায়ে আঘাত লেগে মারাত্মক ব্যথা পান আল আমিন। তাকে মাঠ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দিদিয়েরকে লালকার্ড দেন রেফারি জালাল উদ্দিন। ততক্ষণে ম্যাচের রশদ সব শেষ। সাইফের ইয়াসিন আরাফাত ম্যাচের ৩ গোল করেন ৩-০।