আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নিজের ছোট ভাই আব্দুল কাদের মির্জার বক্তব্যের বিষয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ দলে অপরিহার্য নয়। আমরা কেউ নিয়মশৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে নই। দল করলে দলের নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলা সবাইকে মেনে চলতে হবে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি, দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। ব্যক্তিগতভাবে দলীয় সভানেত্রী নিজেও যে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলের সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা যে কোনো ব্যবস্থা নেবেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে শাস্তি, এটা কারো ক্ষেত্রেই বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিষয় নেই, সুযোগও নেই। সরকারের টানা এক যুগ পূর্তি উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার সকালে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি আয়োজিত শীতার্তের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
আব্দুল কাদের মির্জা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার মেয়র। ঐ আসনেই ওবায়দুল কাদের সংসদ সদস্য। আসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী আব্দুল কাদের মির্জার কয়েকটি বক্তব্য সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত হয়।
এর একটিতে তাকে বলতে শোনা গেছে—‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বৃহত্তর নোয়াখালীতে তিন-চারটা আসন ছাড়া বাকি আসনে আমাদের এমপিরা দরজা টোয়াই পাইত ন (খুঁজে পাবে না)। এটাই হলো সত্য কথা।’ এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে বুধবার নিজের সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বক্তব্য রাখেন।
সরকারের ধারাবাহিকতায় গত ১২ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়ন অগ্রগতির সব সূচকে যুগান্তকারী মাইলফলক স্পর্শ করছে বলে জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্ব সভায় উন্নয়নের রোল মডেল, অর্থনীতি ও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশকে ছাড়িয়ে অগ্রগতির অভূতপূর্ব স্মারক বহন করছে। করোনা ভাইরাসের মতো বৈশ্বিক মহামারি নিয়ন্ত্রণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বে অনুকরণীয় রাষ্ট্রের মর্যাদা পেয়েছে। শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা, দৃঢ়তা, সাহসিকতা, সততা ও কর্মনিষ্ঠা আজ বিশ্ব নন্দিত। একসময়ে তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন ফিরে পেয়েছে ঐতিহ্য।
সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে অতীতের অবিশ্বাসের কৃত্রিম দেওয়াল ভেঙে নির্মিত হয়েছে সম্পর্কের নতুন সেতুবন্ধন। শতভাগ বিদ্যুত্, পায়রা বন্দর, মাতারবাড়ী প্রকল্প, গভীর সমুদ্রবন্দর, বছরের প্রথম দিনে পাঠ্যপুস্তক উত্সব প্রধানমন্ত্রীর অবদান। শেখ হাসিনার হাত ধরেই মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণাধীন। স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মনে করেন, সরকারের পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু সরকারের গৃহীত নীতি ও পরিকল্পনা চলমান থাকবে। ভিন্ন ভিন্ন দল সরকারে আসতে পারে, তবে রাষ্ট্রের লক্ষ্য ও অর্জনের ধারাবাহিকতা গতিশীল থাকবে।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।