চাল ও পেঁয়াজ নিয়ে অস্বস্তিতে মজুতদার ব্যবসায়ীরা

চাল ও পেঁয়াজ নিয়ে অস্বস্তিতে মজুতদার ব্যবসায়ীরা। চাল আমদানির জন্য এলসি খোলার আদেশ দেওয়ার পর চালের বাজারে দ্রুত দরপতন শুরু হয়েছে। পাইকারি বিক্রেতারা এখনই নতুন করে মিলমালিকদের কাছে চালের অর্ডার দিচ্ছেন না। খুচরা বিক্রেতারাও চালের দাম আরো কমবে সেই অপেক্ষায় রয়েছেন। এতে পাইকারি বাজারে বেচাকেনা কমে গেছে। অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম শুধু কমছে তা নয়, গুদামে ও আড়তে মজুত পেঁয়াজে দ্রুত পচন ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কম দামে বিক্রি করেও পেঁয়াজ শেষ করা যাচ্ছে না। তার মধ্যে প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে ভারতীয় পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জের আড়তে ঢুকছে।

চাল আমদানির এলসি খোলার অর্ডার দেওয়ার পর মিল মালিক সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের নাড়া দিয়েছে। প্রতিদিনই চালের দাম কমিয়ে দিচ্ছেন তারা। গত দুই দিন ধরে প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) প্রায় ১০০ টাকা করে কমেছে। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী, বহদ্দারহাট ও চাক্তাই এলাকায় চালের তিনটি বৃহত্ পাইকারি বাজার থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে খুচরা পাইকারেরা চাল নিয়ে যান। পাইকারি বিক্রেতারা জানান, চালের বাজারে স্থবিরতা বিরাজ করছে। আগের মতো বেচাকেনা হচ্ছে না। উত্তরাঞ্চল থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন দেড় শতাধিক গাড়ি চাল চট্টগ্রামে আসে। চালের দরপতন হওয়ায় পাইকারি বিক্রেতারা উত্তরাঞ্চল থেকে নতুন করে অর্ডার বন্ধ রেখেছেন। যারা আমদানির অনুমোদন পেয়েছেন, তাদের চাল এলে বাজার কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা পর্যবেক্ষণ করছেন তারা। এখন পাইকারদের কাছে যে চাল রয়েছে তা বিক্রি করছেন।

চট্টগ্রাম রাইচ মিল মালিক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, পাইকারি বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ টাকা করে কমেছে। এক-দুই দিনের মধ্যে ভারত থেকে আমদানি করা চাল বাজারে পৌঁছাবে। তখন দাম আরো কমতে পারে। সবাই বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন।

এদিকে পেঁয়াজের বাজারে একই অবস্থা বিরাজ করছে। মজুতদার বিক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, দাম অর্ধেক কমিয়েও পেঁয়াজ শেষ করা যাচ্ছে না। অধিকাংশ পেঁয়াজে পচন ধরেছে এবং চারা গজাচ্ছে। ফলে এসব পেঁয়াজ ক্রেতারা কিনছেন না। আড়তে ও গুদামে ছাড়াও বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে প্রচুর পেঁয়াজ। তার মধ্যে প্রতিদিন ৩০-৩৫ গাড়ি ভারতীয় পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জের বাজারে ঢুকছে।

চাক্তাই আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আহসান খালেদ ইত্তেফাককে বলেন, এখন ভারতীয় পেঁয়াজ কেজি ৩৫ থেকে ৪৬ টাকার মধ্যে এবং অন্যান্য পেঁয়াজ সর্বনিম্ন ১৫ থেকে ২৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের কেনা পেঁয়াজ পচন দরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বেচাকেনাও কম হচ্ছে।

ব্যবসায়ী ছাড়াও টিসিবির কাছে প্রচুর পেঁয়াজ রয়েছে। টিসিবি চট্টগ্রাম কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ডিলারদের প্রতিদিন ৩ থেকে ৬ টন করে পেঁয়াজ সরবরাহ করা হচ্ছে। কেজি ২০ টাকা দরে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করা হচ্ছে। বন্দরে ২ হাজার ১০০ টন পেঁয়াজ খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। আরো পেঁয়াজ আসবে। টিসিবির ডিলার আবদুস সবুর বলেন, পেঁয়াজ বরাদ্দ বাড়ানো হলেও সয়াবিন ও ডাল বাড়িয়ে দিচ্ছে না। চট্টগ্রামে ৫৩ জন ডিলার রয়েছেন। তার মধ্যে ২৫-৩০ জন ডিলার টিসিবির পণ্য এনে বিক্রি করছেন। ফলে নগরীর অধিকাংশ স্পটে টিসিবির পণ্য ক্রেতারা কিনতে পারছেন না।