কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকসহ ১১ মামলার আসামিকে আটক করে থানায় নেওয়ার পথে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পুলিশের তিন সদস্য।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ সদর ইউনিয়নের মিঠা পানিরছড়ার হাজি গোলাম হোছনের পুত্র ১১টি মামলার আসামি শামসুল আলমকে (৩৭) আটক করে থানায় নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় খবর রটে, একদল অপহরণকারী শামসুকে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। তখন তাকে উদ্ধার করার জন্য সশস্ত্র একটি গ্রুপ সিএনজি অটোরিকশার গতি রোধ করে শামসুকে ছিনিয়ে নিতে গেলে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের এএসআই মো. রতন মিয়া, শরীফুল, কনস্টেবল বলরাম আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলিবর্ষণ করলে শামসুর ভাই দুটি মামলার পলাতক আসামি খোরশেদ আলম (২২) গুলিবিদ্ধ হন।
আহত পুলিশ সদস্য ও গুলিবিদ্ধ যুবককে চিকিত্সার জন্য টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক খোরশেদকে মৃত বলে জানিয়ে দেন। আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান ও উখিয়া সার্কেলের এএসপি শাকিল আহমেদ আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে হাসপাতালে যান। এরপর আহত পুলিশ সদস্যদের উন্নত চিকিত্সার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করে মৃত যুবকের পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে নিহতের ভাই নুরুল আলম সংবাদকর্মীদের বলেন, ‘আমার ভাই শামসুল আলমকে কে বা কারা সিএনজি অটোরিকশায় করে নিয়ে যাচ্ছে এ খবর শোনার পর কয়েক জন শামসুকে উদ্ধার করার জন্য গেলে একটি সিএনজি অটোরিকশার ভেতর থেকে গুলি চালালে আরেক ভাই খোরশেদ গুলিবিদ্ধ হন। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. হাফিজুর রহমান জানান, মাদক মামলাসহ ১১টি মামলার পলাতক আসামি শামসুল আলমকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে শামসুকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশের ওপর হামলা চালালে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পালটা গুলি চালায়। নিহত যুবকের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে।