শীতবস্ত্র বিতরণে আল্লাহর সন্তুষ্টি

আল্লাহর ইচ্ছায় প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে ঋতুর পরিবর্তন হয়। আমাদের দেশে এখন চলছে শীতকাল। শীতের তীব্রতায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেশি কষ্ট পাচ্ছে। এজন্য আমাদের ইমানি কর্তব্য হলো তাদেরকে শীতবস্ত্র দেওয়া। ইসলাম হচ্ছে মানবতার ধর্ম, উদারতার ধর্ম, ত্যাগের ধর্ম। অসহায় মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করাকে ইসলাম সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যের বিপদে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করা ইসলামের অন্যতম নির্দেশ। মানবতার নবি বিশ্বনবি রহমাতুল্লিল আলামিন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসে।’

অসহায় মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতার অন্যতম একটি মাধ্যম হলো দান-সাদকা করা। ইসলাম আর্তমানবতার সেবায় দানকে উত্সাহিত করেছে। নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত দ্বারা যেমন আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়, তেমনি আর্তমানবতার সেবা করেও আল্লাহকে পাওয়া যায়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা সুরা বাকারার ১৭৭ নম্বর আয়াতে ইরশাদ ফরমান, ‘তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডলসমূহ পূর্ব দিকে বা পশ্চিম দিকে ফেরাও, এতেই কিন্তু সব নেকি নিহিত নেই। তবে আসল নেকি হচ্ছে ইমান আনবে আল্ল­াহর ওপর, কিয়ামত দিবসের ওপর, ফেরেশতাদের ওপর এবং সমস্ত নবি-রাসুলের ওপর আর সম্পদ ব্যয় করবে তারই মহব্বতে আত্মীয়স্বজন, এতিম-মিসকিন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্য।’

আর্তমানবতার সেবা হচ্ছে আল্লাহকে পাওয়ার বড় অসিলা। তাই সাধ্যমতো যার যা তাওফিক হয়, তা দিয়ে আর্তমানবতার সেবা করতে হবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা আর্তমানবতার সেবাকে এতই গুরুত্ব দিয়েছেন যে, তিনি তা নিজের দিকে সম্পর্কিত করেছেন। মুসলিম শরিফের এক বর্ণনায় হাদিসে কুদসিতে এসেছে, ‘আল্ল­াহ কেয়ামতের দিন বান্দাকে প্রশ্ন করে বলবেন, হে বান্দাহ! আমি অসুস্থ ছিলাম; তুমি আমার খবর নেওনি? বান্দাহ  তখন বিস্মিত হয়ে বলবে, আল্ল­াহ! আপনি সর্বশক্তিমান সমগ্র জগতের স্রষ্টা, আপনি কি করে অসুস্থ হতে পারেন! আল্ল­াহ বলবেন, ওহে! তুমি কি জানতে না আমার অমুক অমুক বান্দাহ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল; যদি তুমি তাদের দেখতে যেতে তাহলে আমাকেও সেখানে পেতে। একইভাবে আল্ল­াহ বান্দাহকে (প্রশ্ন করে) বলবেন, হে বান্দা! আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম, আমাকে আহার করাওনি। আমি পিপাসার্ত ছিলাম, আমাকে পান করাওনি। আমি আশ্রয়হীন ছিলাম, আমাকে আশ্রয় দাওনি। বান্দাহ এসব শুনে বিনীত হয়ে বলবে, আল্ল­াহ! আপনি আমাদের পালনকর্তা আমাদের রব, আপনি কি করে ক্ষুধার্ত, পিপাসার্ত ও আশ্রয়হীন হতে পারেন! আল্ল­াহ বলবেন, তোমার পাশে আমার ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত, আশ্রয়হীন বান্দা পড়েছিল, তুমি যদি তাদের সেবা করতে তাহলে আমাকে সেখানে দেখতে পেতে।’

আবু দাউদ শরিফের এক বর্ণনায় এসেছে, নবি করিম (স) বলেন, ‘যে মুসলমান অন্য মুসলমানকে বস্ত্রহীন অবস্থায় বস্ত্র দান করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে সবুজ বর্ণের পোশাক পরাবেন। খাদ্য দান করলে তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন, পানি পান করালে তাকে জান্নাতের শরাব পান করাবেন।’ তিরমিজির এক বর্ণনায় ইবনে আব্বাস (রাজি) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (স) বলেন, ‘কোনো মুসলমান অপর মুসলমানকে কাপড় দান করলে যতক্ষণ ঐ কাপড় তার কাছে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ঐ দানকারী আল্লাহর হেফাজতে থাকবে।’

বর্তমানে প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রকোপে মানবতা প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেকের কাজ নেই, ব্যবসা-বাণিজ্যেও চলছে মন্দা ভাব। দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষগুলো দারুণ কষ্টে আছেন। আবার এরই মাঝে জেঁকে বসেছে শীত। তাই এ অবস্থায় আর্তমানবতার সেবায় আমাদের অনেক করণীয় রয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী আমাদের দান করতে হবে। দয়ার নবি মায়ার নবি রহমাতাল্লিল আলামিন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, ‘সে ব্যক্তি পূর্ণ মুমিন নয়, যে পেট পুরে খায় আর তার প্রতিবেশী অনাহারে থাকে।’ সবসময় প্রতিবেশীর খোঁজখবর নিতে হবে, তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। আল্লাহ অভাবী মানুষকে আমাদের পাশে রেখেছেন আমাদের পরীক্ষার জন্য, এটা আমাদের ইমানের পরীক্ষা। আমরা তাদের জন্য কী করছি আল্লাহ তা দেখতে চান। ‘সকল ধর্মের মর্মকথা, সবার ঊর্ধ্বে মানবতা।’ তাই আসুন প্রত্যেকে নিজ সামথ্য অনুযায়ী দুস্থদের পাশে এগিয়ে যাই। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন!

lলেখক :আজিমপুর দায়রা শরিফের বর্তমান সাজ্জাদানশিন পির ও মুতাওয়াল্লি