পাইকগাছা উপজেলায় গাছে গাছে বাঁধা হচ্ছে মাটির কলস, ছোট ঝুড়ি ও বাঁশের তৈরি বাসা। আর তাতে বাসা বাঁধতে শুরু করেছে বন্যপাখি। উপজেলার সরল গ্রামের মেইন সড়কের পাশে বটগাছে বাঁধা পাত্রে বাসা বেঁধেছে শালিক, নতুন বাজারের পাশে বকুল ও মেহগনি গাছে বাঁধা পাত্রে চড়ুইপাখি বাসা বেঁধেছে। গোপালপুর স্কুলের পাশের মেহগনি গাছে দোয়েল পাখি বাসা বেঁধেছে।
উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বন্যপাখি রক্ষায় গত কয়েক বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন বনবিবি। সংগঠনটির সভাপতি প্রকাশ ঘোষ বিধান জানান, পাখি রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি ও তাদের আবাসস্থল সুরক্ষায় বনবিবি বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বনবিবির উদ্যোগে ২০১৬ সাল থেকে উপজেলার পৌরসভা, গদাইপুর, রাডুলী, হরিঢালী, কপিলমুনি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে অবস্থিত বিভিন্ন গাছে পাখির বাসার জন্য মাটির পাত্র স্থাপন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন গাছে প্রায় ১ হাজার ২০০ মাটির পাত্র স্থাপন করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন ঝড়সহ ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে গাছের ডালপালা ভেঙে প্রায় তিন শতাধিক মাটির পাত্র ভেঙে যায়। যেসব গাছের মাটির পাত্র ভেঙে গেছে সেসব গাছে পুনরায় পাখির বাসার জন্য মাটির পাত্র স্থাপন করা হচ্ছে।
উপজেলার পৌর সদরসহ আশপাশের তিন-চারটি ইউনিয়নের গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, গাছের ডালে ডালে বাঁধা হয়েছে মাটির ছোট ছোট কলস ও ঝুড়ি। এতে পাখির আনাগোনা বেড়েছে।
গদাইপুর গ্রামের চাষি মোবারক ঢালী জানান, বনবিবির উদ্যোগে পাখি সুরক্ষায় নানা প্রচার ও গাছে মাটির পাত্র বেঁধে দেওয়ায় শিকারিদের দৌরাত্ম্য অনেক কমে গেছে।
উপজেলার বন কর্মকর্তা প্রেমানন্দ রায় জানান, বনবিবির এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এর ফলে আমাদের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসম্য রক্ষা হবে। পাখিরা ফিরে পাবে নিরাপদ আবাসস্থল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, এটি একটি অসাধারণ উদ্যোগ। এ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। বনবিবির এ কার্যক্রমকে তিনি সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় পাখির গুরুত্ব অপরিসীম। তাই পাখি সুরক্ষায় সবার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।