চা পান নাকি বিষ পান?

চা আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। সারা দিনের কাজের ক্লান্তি দূর করতে এক কাপ চায়ের বিকল্প নেই। বর্তমানে শহরাঞ্চলে মানুষের চাহিদা বিবেচনায় নানান স্বাদের চা নিয়ে অলিগলি থেকে শুরু করে নানা জায়গায় রেস্তোরাঁ পর্যন্ত গড়ে উঠেছে। দিনের শুরু থেকে রাত পর্যন্ত চলে এই চা বিক্রি। উদ্বেগের বিষয়, প্রতিদিন রিকশাচালক থেকে শুরু করে নানান   পেশার মানুষেকে রাস্তার ধারে গড়ে ওঠা এসব টঙের দোকানে প্ল­াস্টিকের কাপে চা পান করতে দেখা     যায়, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। সম্প্রতি দেশে মহামারি করোনাকালে নিম্নমানের এসব প্ল­াস্টিকের কাপে চা বিক্রি আরো বেড়েছে। গবেষকদের মতে, প্ল­াস্টিকের মধ্যে থাকা ‘বিসফেনল’ নামের টক্সিন এক্ষেত্রে বড় ঘাতক। গরম খাবার বা পানীয় প্ল­াস্টিকের সংস্পর্শে এলে ঐ রাসায়নিক খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। এটা শরীরে প্রবেশ করলে হার্ট, কিডনি, লিভার, ফুসফুস ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ নানারকম শারীরিক জটিলতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। করোনা থেকে বাঁচতে এখন বেশিরভাগ মানুষ কাচের কাপের পরিবর্তে প্ল­াস্টিকের কাপ ব্যবহার করছে চা পানের ক্ষেত্রে। কিন্তু আমরা  অনেকেই জানি না প্ল­াস্টিকের কাপে চা পানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে আমাদের সবার উচিত প্ল­াস্টিকের কাপে চা পান পরিহার করা। এখানেই শেষ নয়, মানুষজন প্ল­াস্টিকের কাপ চা খাওয়া শেষে যত্রতত্র ফেলছে, এতে পরিবেশও পড়ছে হুমকির মুখে। বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণ এবং যুবরাই পরিবেশে প্ল­াস্টিক দূষণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। তাই তরুণসহ সবাইকে এ ব্যাপারে আরো সচেতন করতে এবং প্ল­াস্টিকের যত্রতত্র ব্যবহার রোধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু পদক্ষেপ আশা করছি।

আরিফুল ইসলাম

শিক্ষার্থী, বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বন্দর কলেজ